১৯৭১-এর ১৬ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ শেখ মুজিব-জেনারেল ইয়াহিয়া বৈঠকে চার দফা সমঝোতা হয়।
এর আগে ৭ মার্চ ঐতিহাসিক এক ঘটনা ঘটে—যাকে সংবিধানের পঞ্চম তপশিল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যাতে “১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের’ দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ” অভিহিত করে ৭ মার্চের ভাষণটি সংবিধানে সন্নিবেশিত করা হয়। যদিও সংবিধানে সন্নিবেশিত ভাষণটিকে ‘স্বাধীনতার ঘোষণা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। পরবর্তীকালে এই ভাষণকেই ‘স্বাধীনতার ঘোষণা’ বলে উল্লেখ করা হয়। যাই হোক, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা এবং ঘোষক বলে নানা বিতর্ক আছে—সে প্রশ্নে যাবার সুযোগ এই নিবন্ধে নেই। কারণ আমরা বিপ্লব কেন বারবার ব্যর্থ হয় বা বিপ্লবকে অথবা এর সম্ভাবনাকে কারা বারবার ‘হত্যা’ করে সে বিষয়ে আলোচনা ও গভীরভাবে পর্যালোচনা করছি।
এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন—মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের কন্যা শারমিন আহমদ লিখিত ‘নেতা ও পিতা’ বইয়ে তিনি অর্থাৎ শারমিন আহমদ বলছেন, ‘পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আব্বু স্বাধীনতার ঘোষণা লিখে নিয়ে এসেছিলেন এবং টেপরেকর্ডারও নিয়ে এসেছিলেন। টেপে বিবৃতি দিতে বা স্বাধীনতার ঘোষণায় স্বাক্ষর প্রদানে মুজিব কাকু অস্বীকৃতি জানান।’ [পৃ-৬০, তাজউদ্দীন আহমদ নেতা ও পিতা—শীর্ষক বই, প্রকাশকাল-২০১৪]
মুক্তিযুদ্ধের সময়ের ওপরে লিখিত এবং মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি মাঈদুল হাসানের বই ‘মূলধারা ৭১’-এ লেখক বলছেন, ‘জানুয়ারি বা সম্ভবত তার আগে থেকেই যে সমর প্রস্তুতির শুরু হয়েছিল, তার অবশিষ্ট আয়োজন সম্পন্ন করার জন্য মার্চের মাঝামাঝি থেকে ইয়াহিয়া-মুজিব আলোচনার ধূম্রজাল বিস্তার করা হয়। এই আলোচনার উদ্দেশ্য সম্পর্কে যুগপৎ সন্দিহান ও আশাবাদী থাকায় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের পক্ষে আসন্ন সামরিক হামলার বিরুদ্ধে যুগোপযোগী সাংগঠনিক প্রস্তুতি ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। সম্ভবত এই কারণে ২৫/২৬ মার্চের মধ্যরাতে টিক্কার সমর অভিযান শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত আওয়মাী লীগ স্বাধীনতার সপক্ষে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে উঠতে পারেনি। … নেতাকর্মী সকলকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েও তাদের সকল অনুরোধ উপেক্ষা করে সম্পূর্ণ নিজের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শেখ মুজিব রয়ে যান নিজ বাসভবনে। সেখান থেকে গ্রেপ্তার হন হত্যাযজ্ঞের প্রথম প্রহরে।’ [মূলধারা-৭১, ইউপিএল, ১৯৯২, পৃ-৪]


✍️ মন্তব্য লিখুন