১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিখিত একটি অনন্য দিন। গভীর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, অস্থিরতা এবং সাংবিধানিক সংকটের পটভূমিতে এই দিনে দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এক যুগান্তকারী অভ্যুত্থান ঘটিয়েছিল, যা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় অনন্য ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশে এই দিনটি ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালিত হয়।
পটভূমি ও অস্থিরতার সময়কাল
এই স্থিতিশীলতায় পৌঁছানোর আগে বাংলাদেশকে এক চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল। তৎকালীন শাসক শেখ মুজিবুর রহমান সারা জীবন গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করলেও, ক্ষমতায় গিয়ে তিনি মানুষের রাজনৈতিক অধিকার ও বাক স্বাধীনতা হরণ করেন। ১৯৭৫ সালের ২৫শে জানুয়ারি দেশে একদলীয় ‘বাকশাল’ শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা হয় এবং মাত্র ৪টি সংবাদপত্র রেখে বাকি সব বন্ধ করে দেওয়া হয়। রাষ্ট্রক্ষমতা চিরস্থায়ী করার এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষ ভালোভাবে গ্রহণ করেনি। পাশাপাশি, চরম অপশাসন ও বিতরণ ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতি-অনিয়মের কারণে ১৯৭৪ সালে দেশে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, যদিও পরবর্তী বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে সে সময় দেশে খাদ্যাভাব খুব একটা প্রকট ছিল না।
৭ই নভেম্বরের পটপরিবর্তন
বাকশাল পরবর্তী সময়ে সামরিক বাহিনীর মধ্যে অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থানের ফলে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। এই সুযোগে দেশি-বিদেশি চক্রান্তও সক্রিয় হয়ে ওঠে। এমন এক অবরুদ্ধ ও মৃত্যুর দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরে এসে জেনারেল জিয়াউর রহমান পাল্টা সামরিক অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেন। সিপাহি-জনতার এই স্বতঃস্ফূর্ত জাগরণ সামরিক বাহিনীর ভেতরের অস্থিরতার অবসান ঘটায় এবং সেনাবাহিনীতে দ্রুত ‘চেইন অব কমান্ড’ ফিরিয়ে আনে।
৭ই নভেম্বরের পর জিয়াউর রহমান প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে, ১৯৭৭ সালের ২১শে এপ্রিল তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করলে, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
জাতীয় জীবনে দিবসের তাৎপর্য
৭ই নভেম্বর কেবল ক্ষমতার কেন্দ্রবদল করেনি, বরং সংকটাপন্ন একটি রাষ্ট্রকে নতুন করে দাঁড়ানোর পথ তৈরি করে দিয়েছিল। দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির গতিপথ নির্ধারণে এই দিনের প্রভাব অনস্বীকার্য। রাষ্ট্র ও সমাজের স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে এই তাৎপর্যপূর্ণ ঐতিহাসিক অধ্যায়ের মূল নায়ক ছিলেন জেনারেল জিয়াউর রহমান। এই দিনটি আমাদের আজও মনে করিয়ে দেয়—জাতীয় সংকটকালে জনগণের ঐক্যই হলো দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি।
স্বাধীনতার ৫৪ বছরে বাংলাদেশের এই পথ চলার ইতিহাসে, বাংলাদেশের সকল সংকটে বার বার এই জিয়াউর রহমানের তৈরী দল বিএনপি-ই জাতির হাল ধরছে –
গত ২০ বছরে অব্যবস্থাপনা দূর করতে জাতি আবারো বিএনপির উপরই আস্থা রেখেছে –
করবো কাজ , গড়বো দেশ- সবার আগে বাংলাদেশ
এই জনপ্রিয় শ্লোগান কে সামনে রেখে – দেশ গঠন তারেক জিয়া কাজ করে যাচ্ছেন – এই ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবসে, দল মত নির্বিশেষে সকলে অংগীকার করি , বেশ বিনির্মাণে তারেক জিয়ার হাতকে শক্তিশালী করি –


✍️ মন্তব্য লিখুন