দেশে ডেংগুর প্রকোপ চলছে। এই সুযোগে এক iশ্রেণীর অসৎ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ডাবের দাম হাসপাতাল এলাকায় ১৮০-২৫০ টাকায় বিক্রি করছে। অধিকাংশ মানুষ এটাকে ঐশ্বরিক কিছু মনে করে থাকেন। এটা যেন সর্ব রোগের মহৌষধ। বমি করলে, পাতলা পায়খানা করলে, জ্বর হলে অথবা ঘেমে গেলে ডাবের পানি পান করে। কিন্তু আসলে ডাবের পানি কি এতোটাই অপরিহার্য? ডেংগু এবং অনান্য চিকিৎসার ক্ষেত্রে এটা কতটুকু উপকারি? মেডিকেল সাইন্সের দৃষ্টিতে দেখি।
ডাবের পানির মূল সমস্যা হলো এর সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের অনুপাত। এতে সোডিয়াম খুব কম (প্রতি ১০০ মিলিতে ৫-২৫ মিগ্রা) এবং পটাশিয়াম অনেক বেশি (প্রতি ১০০ মিলিতে ১৮৬-২৯৪ মিগ্রা) থাকে। অন্যদিকে ডব্লিউএইচও-অনুমোদিত ওআরএস (ওর স্যালাইন)-এ সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের পরিমাণ বৈজ্ঞানিকভাবে নির্ধারিত (যেমনঃ সোডিয়াম ৭৫-৯০ মিলিমোল/লিটার, পটাশিয়াম ২০ মিলিমোল/লিটার)। তাই ডাবের পানি দিয়ে সোডিয়ামের ঘাটতি মেটাতে গেলে অতিরিক্ত পটাশিয়াম শরীরে ঢুকে পড়ে, যা হার্ট ও কিডনির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
ডেংগুতে রক্তনালী থেকে তরল ও সোডিয়াম বেরিয়ে গিয়ে হাইপোনেট্রেমিয়া (রক্তে সোডিয়ামের ঘাটতি) দেখা দেয়। এ অবস্থায় ডাবের পানি খেলে সোডিয়াম ঠিকমতো পূরণ হয় না, বরং হাইপারক্যালেমিয়া বা রক্তে পটাশিয়াম বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা হৃদস্পন্দন অনিয়মিত করে মৃত্যুও ঘটাতে পারে। বিশেষজ্ঞরাও সতর্ক করেছেন যে ডেংগুতে অতিরিক্ত ডাবের পানি পটাশিয়ামের মাত্রা বাড়িয়ে অঘটন ঘটাতে পারে। তাই ডেংগু গাইডলাইনে ওআরএস-কেই প্রথম ও প্রধান তরল হিসেবে সুপারিশ করা হয়।
দেশের হাসপাতালগুলোর সামনে ডাব ১৮০-২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যার পাইকারি দাম (৫০-১০০ টাকা) এর চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। বিপরীতে একটি ওআরএস স্যাচেটের (প্যাকেট) দাম মাত্র ৬ টাকা। ওআরএস -এর মাধ্যমে যে পরিমাণ সোডিয়াম পাওয়া যায়, তা ডাব দিয়ে পূরণ করতে গেলে ৭২০-১০০০ টাকা খরচ হবে, সঙ্গে থাকবে হাইপারক্যালেমিয়ার ভয়।
ডাবের পানি একটি স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু পানীয়, তবে ডেংগু চিকিৎসায় বা অন্যান্য অসুখের ক্ষেত্রে এটি ওআরএস-এর বিকল্প নয়। ডেংগুতে তরল ও ইলেক্ট্রোলাইট পূরণের জন্য ওআরএস-ই সবচেয়ে নিরাপদ, কার্যকর ও সাশ্রয়ী। ডাব খাওয়া যেতে পারে বিনোদন হিসেবে, কিন্তু চিকিৎসার জন্য নয়। হাসপাতালের সামনে অতিরিক্ত দামে ডাব কেনার আগে সচেতন হোন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
তৌহিদ টিটু
গবেষনা কর্মকর্তা (ফিল্ড), আইসিডিডিআরবি


✍️ মন্তব্য লিখুন