যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাতের অবসান চাইলেও এর মূল কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ‘প্রাথমিক আগ্রাসনকে’ চিহ্নিত করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। তার অভিযোগ, সংঘাতের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা স্বীকার করতে অনেক দেশই অনিচ্ছুক।
নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ইরানকে ঘিরে বর্তমান সংঘাতের আলোচনা শুরু করতে হলে প্রথমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ‘প্রাথমিক আগ্রাসনের’ বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। সংঘাতের কারণ স্বীকার না করে শুধু পরবর্তী হামলার নিন্দা করলে সমস্যার পূর্ণাঙ্গ সমাধান হবে না।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইরানের ওপর সংঘাতের প্রেক্ষাপট নিয়ে কথা বলতে অনেক দেশের মধ্যে এক ধরনের অনীহা রয়েছে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল কিংবা ইরান—যে পক্ষ থেকেই সহিংসতা হয়ে থাকুক, তা বন্ধ করা জরুরি।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষই শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে যেতে চাইছে কি না এবং দুই পক্ষের কঠোর অবস্থান শান্তি প্রতিষ্ঠাকে কঠিন করে তুলছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাধান প্রয়োজন। তবে সহিংসতা বন্ধ করার পাশাপাশি ন্যায়বিচারও নিশ্চিত করতে হবে। কীভাবে সংঘাতের সমাধান হবে—তার প্রথম পদক্ষেপ হলো সহিংসতা বন্ধ করা। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল কিংবা ইরান—যে পক্ষের সহিংসতাই হোক, তা বন্ধের পক্ষে তিনি।
আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শত্রুতা বন্ধের বিষয়টি নিয়ে কোনো বিরোধ নেই। তবে সংঘাতের কারণ এবং প্রথম কে শক্তি প্রয়োগ করেছে, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তার ভাষায়, একটি দেশের বিরুদ্ধে ‘অযৌক্তিক আগ্রাসন’ থেকেই সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছে।
গাজা ও ফিলিস্তিন প্রশ্নেও একই ধরনের অবস্থান তুলে ধরেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গাজা বা ফিলিস্তিনের সংকটকে শুধু হামাসের কর্মকাণ্ড দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। তার মতে, হামাসের অস্তিত্বের বহু আগে থেকেই ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত চলে আসছে।
আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, হামাসের বয়স ২০ বা ৩০ বছর হলেও ফিলিস্তিনের সংঘাতের ইতিহাস প্রায় ৭০ বছরের। ফলে গাজা বা ফিলিস্তিনের বর্তমান পরিস্থিতিকে শুধু হামাসের কর্মকাণ্ডের ফল হিসেবে দেখা ঠিক নয়।
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত দুই দিনের ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে তিনি এনডিটিভির সঙ্গে কথা বলেন। সম্মেলনে বিভিন্ন ব্রিকস সদস্য ও অংশীদার দেশের নেতারা অংশ নেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্মেলনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংসহ বিভিন্ন দেশের নেতাদের স্বাগত জানান। সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমও উপস্থিত ছিলেন।


✍️ মন্তব্য লিখুন