ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে তার পরিবার। সোমবার দুপুরে উচ্চ আদালতের রায় ঘোষণার খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় শিরিন আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমি উচ্চ আদালতে ন্যায়বিচার পেয়েছি।’
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হত্যাকারীদের পক্ষ থেকে প্রচার করা হয়েছিল, আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। উচ্চ আদালতের রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, তাকে হত্যা করা হয়েছে।
নুসরাতের মা আরও বলেন, আমাকে ও আমার সন্তানদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আমি তিন সন্তানের নিরাপত্তা চাই।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় স্থানীয় কয়েকজন বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে কিছুটা হলেও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি দেশের বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।
তারা বলেন, নিম্ন আদালতে ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার রায় নিয়ে সে সময় বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। উচ্চ আদালতের রায়ে বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়েছে। এই রায়ের মাধ্যমে বিচারকদেরও রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়ার বার্তা যাবে বলে তারা মনে করেন।
তারা বিচারাধীন মামলাগুলোর রায় দ্রুত দেওয়ারও দাবি জানান। তাদের মতে, দ্রুত সময়ে বিচার শেষ করে রায় দেওয়া হলে বাদী ও আসামি- উভয় পক্ষের পরিবারের জন্যই তা ভালো।
এদিকে রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নুসরাতের পরিবারের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছেন।
সোনাগাজী মডেল থানার এসআই পলাশ চন্দ্র রায় বলেন, ‘মামলার রায়কে কেন্দ্র করে এখানে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিবারের নিরাপত্তার জন্য আমরা এখানে নিয়োজিত আছি।’


✍️ মন্তব্য লিখুন