চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার মান, কলেজগুলোর শিক্ষার্থী ধরে রাখা এবং বিদ্যমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর টেকসই পরিচালনা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল ও একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির তথ্য বিশ্লেষণে শিক্ষার্থীদের বিভাগভিত্তিক পাস ও ভর্তি সংখ্যায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ বছর মতলব উত্তর উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ৬৫৭ জন শিক্ষার্থী। অন্যদিকে, উপজেলার ১০টি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১১৩ জন। অর্থাৎ, উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের তুলনায় স্থানীয় কলেজগুলোতে ভর্তি হওয়ার সংখ্যা ৫৪৪ জন কম। তবে এই পার্থক্যের সব শিক্ষার্থীই যে উপজেলার বাইরে ভর্তি হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
বিভাগভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি উত্তীর্ণ হয়েছে ৯২৫ জন শিক্ষার্থী। বিপরীতে, স্থানীয় কলেজগুলোতে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়েছে মাত্র ২১৫ জন। এতে করে বিজ্ঞান শিক্ষায় ছাত্র-ছাত্রী ধরে রাখা চ্যালেংজ হয়ে দাড়িয়েছে। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে উত্তীর্ণ ৩৭০ জনের মধ্যে ভর্তি হয়েছে ২২১ জন। অন্যদিকে, মানবিক বিভাগে উত্তীর্ণ ৩৬২ জনের বিপরীতে ভর্তি হয়েছে ৬৭৭ জন।
এই পরিসংখ্যান থেকে ধারণা করা যায়, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী স্থানীয় কলেজগুলোর বাইরে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা করতে পারে। অন্যদিকে, মানবিক বিভাগে ভর্তির সংখ্যা ওই বিভাগে এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যার চেয়ে বেশি হওয়ায় বাইরের শিক্ষার্থী ভর্তি কিংবা বিভাগ পরিবর্তন এর কারনে হতে পারে।
উপলব্ধ তথ্য অনুযায়ী, শরীফ উল্লাহ স্কুল অ্যান্ড কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে মাত্র ৬ জন শিক্ষার্থী। দ্য কার্টার একাডেমিতে ভর্তি হয়েছে ২৫ জন এবং সুজাতপুর কলেজে ৫৩ জন।
এত কম শিক্ষার্থী নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা, প্রয়োজনীয় শিক্ষক ও অবকাঠামো বজায় রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা কতটা সম্ভব—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে শুধু শিক্ষার্থীসংখ্যার ভিত্তিতে কোনো প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল, শিক্ষকসংখ্যা, বিষয়ভিত্তিক পাঠদান, অবকাঠামো ও পরিচালনব্যবস্থাও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
মতলব উত্তরের উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার সামগ্রিক উন্নয়নে নতুন কলেজ প্রতিষ্ঠার চেয়ে বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মানোন্নয়ন, দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ ও ধরে রাখা, বিজ্ঞানাগার আধুনিকায়ন, সমৃদ্ধ পাঠাগার গড়ে তোলা এবং মানসম্মত পাঠদানের পরিবেশ নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে।
একই সঙ্গে কেন বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীরা স্থানীয় কলেজে তুলনামূলক কম ভর্তি হচ্ছে, তা অনুসন্ধান করা জরুরি। শিক্ষার মান, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকসংকট, পরীক্ষার ফলাফল, যাতায়াতব্যবস্থা, অভিভাবকদের প্রত্যাশা এবং কলেজগুলোর সুযোগ-সুবিধা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রয়োজন সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা
উপজেলার প্রতিটি কলেজের সমস্যা ও সম্ভাবনা চিহ্নিত করে একটি বাস্তবভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসন, শিক্ষা বিভাগ, কলেজ কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক, অভিভাবক এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কম শিক্ষার্থীসংখ্যার প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমও তথ্যভিত্তিকভাবে মূল্যায়ন করা দরকার। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিধিবিধান অনুসরণ করে বাস্তবসম্মত পুনর্বিন্যাস, আন্তপ্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা কিংবা বিশেষ উন্নয়ন কর্মসূচি বিবেচনা করা যেতে পারে।
মতলব উত্তরের উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদের স্থানীয় কলেজে পড়ার আগ্রহ বাড়ানো, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের টেকসই পরিচালনার জন্য এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। [তথ্যসূত্র: ড. এমদাদুল হকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত পোস্ট।]


✍️ মন্তব্য লিখুন