নাসিক নির্বাচনে সংঘাতের আশংকা : কমতে পারে ভোটার উপস্থিতি

নজরুল ইসলাম বাবুল, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

0 81

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসীরা সক্রিয় হয়ে উঠছে। ইতিমধ্যেই তাদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কিছু এলাকায় সংঘর্ষের কিছু ঘটনাও ঘটেছে। আগামী ১৬ জানুয়ারী ভোটের আগের রাত থেকেই তাদের রুদ্রমূর্তি দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা প্রকট হয়ে উঠেছে।

advertisement

advertisement

ভোটের দিন যা রক্তক্ষয়ী সংঘাতে রুপ নিতে পারে। সন্ত্রাসীরা মূলত কাউন্সিলরদের পক্ষেই সংঘাত-সংঘর্ষে জড়াতে পারে। ২৭ টি সাধারন কাউন্সিলর পদের জন্য লড়ছেন ১৪৮ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে ১১০ জনের বেশীই আওয়ামীলীগ দলীয়। ২৬ জন রয়েছে ইসলামী আন্দোলনের। তিন জন রয়েছেন বিএনপির পদধারী। ভোটার ও প্রার্থীদের মাঝে ইতিমধ্যেই শংকা তৈরী হয়েছে।

বিশেষ করে সিদ্ধিরগঞ্জের কয়েকটি ওয়ার্ডে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের কোন কর্মকান্ড এখনো জোরালভাবে পরিচালনা করেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এসবসহ নানা কারনে এবার ভোটার উপস্থিতি আগের নির্বাচনের তুলনায় অনেক কম হতে পারে।

advertisement

প্রার্থী ও ভোটারদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, নগরীর ১ নং ওয়ার্ডে সাত জন কাউন্সিলর প্রার্থীর ছয় জনই আওয়ামীলীগ দলীয়। এদের মধ্যে চার জন অত্যন্ত প্রভাবশালী। তাদের অনুগত সন্ত্রাসী-লাঠিয়াল আছে প্রচুরসংখ্যক। এলাকায় কিশোরগ্যাং ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরও বসবাস রয়েছে। ১২টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে পাইনাদী রেকমত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের চারটি, ৯৮ নং পাইনাদী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, সামসুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, ফুলকলি ল্যাবরেটরী হাইস্কুল, হিরাঝিল আইডিয়াল স্কুল কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার আশংকা রয়েছে।

২ নং ওয়ার্ডের মিজমিজি পশ্চিমপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ও ১০১ নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় একই সীমানা প্রাচীরের ভিতরে ৬টি ভোট কেন্দ্র। মিজমিজি কান্দাপাড়া এলাকায় আনন্দলোক উচ্চ বিদ্যালয়ে ২টি ভোট কেন্দ্র। এই ৮টি কেন্দ্রে ২০ হাজার ৯৫০ জন ভোটার। ৮ জন কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে ২ জন ছাড়া বাকী ছয়জনই আওয়ামীলীগ দলীয়। এরমধ্যে তিনজন প্রভাবশালী। মিজমিজি পশ্চিমপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ও ১০১ নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬টি ভোট কেন্দ্রে ওই তিন প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের শংকা রয়েছে। এই ওয়ার্ডে তালিকাভুক্ত ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী রয়েছে। ইতিমধ্যেই বহিরাগত সন্ত্রাসীদের এই ওয়ার্ডে জড়ো করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে।

৩ নং ওয়ার্ডে ২২ হাজার ৬৪৭ জন ভোটার রয়েছেন। ৬ জন কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে একজন ছাড়া বাকীরা আওয়ামীলীগের। এদের মধ্যে একজন প্রার্থী নিজেই ভয়ঙ্কর অপরাধী। ওই প্রার্থীসহ চার জন প্রার্থী ভোট দিবেন আলী আকবর মডেল হাইস্কুলে পুরুষ ও মহিলা ভোট কেন্দ্রে। তাদের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে বদরুন্নেছা আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের পুরুষ ও মহিলা ভোট কেন্দ্র। এই চারটি ভোট কেন্দ্রে সংঘাতের আশংকা রয়েছে ভোটারদের। এই এলাকায় হাতুড়ি বাহিনীসহ একাধিক অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ভোট কেন্দ্রে সংঘাত সৃষ্টির প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে একাধিক প্রার্থী ও ভোটারেরা জানিয়েছে।

৪ নং ওয়ার্ডে ৪ জন কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে একজন ইসলামী আন্দোলনের, একজন বিএনপির সাবেক নেতা ও দুজন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের। তিন জন প্রার্থীর রয়েছে ব্যাপক প্রভাব। ৫ টি ভোট কেন্দ্রে এখানে নিবন্দ্বিত ভোটার রয়েছে ১৫ হাজার ৩৯৩ জন। সিদ্ধিরগঞ্জ উত্তর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, পানি উন্নয়ন বোর্ড উচ্চ বিদ্যালয় ও হাজী ফজলুল হক মডেল হাই স্কুল কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা ও সংঘাতের আশংকা রয়েছে। এরইমধ্যে সেখানে উত্তেজনা চলছে।

৬ নং ওয়ার্ডে ১৭ হাজার ৪৭০ জন ভোটারের জন্য ৭টি কেন্দ্র প্রস্তুত করা হচ্ছে। ৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর ৫ জনই আওয়ামীলীগের । এদের মধ্যে দুই জন সাবেক ও বর্তমান কাউন্সিলর। তাদের রয়েছে কয়েকশত ক্যাডার। প্রায়ই এই দুই পক্ষে ব্যাপক সংঘাত হয়। সংঘাতে আগ্নেয়াস্ত্র প্রাকাশ্যে ব্যবহার হলেও সেগুলি উদ্ধার হয়নি। ভোট গ্রহনকে কেন্দ্র করে আবারো সেখানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হওয়ার আশংকা করছে স্থানীয় ভোটারেরা। এই ওয়ার্ডে মাদক, জুট ও চোরাই তেলের রমরমা ব্যবসা চলে প্রভাবশালী লোকজনের শেল্টারে। এসব ব্যবসায়ীরা নির্বাচনে তাদের শেল্টারদাতাদের পক্ষে নির্বাচনেও সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

৮ নং ওয়ার্ডের তাতখানা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ক্যামব্রিজ কিন্ডার গার্টেন কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার আশংকা রয়েছে। এই ওয়ার্ডে ৩১ হাজার ৮০৯ জন ভোটার রয়েছেন। ৮ জন প্রার্থীর মধ্যে দুই জন সরকার দলীয় প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে এ বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি হতে পারে বলে স্থানীয়রা আশংকা করছেন।

১৭ নং ওয়ার্ডে বাবুরাইল বেপারী পাড়া সরকারী বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাবুরাইল বেপারী পাড়া সরকারী বালক প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দেওভোগ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই প্রভাবশালী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সহিংষতার আশংকা রয়েছে। ১৭ হাজার ৪৮০ জন ভোটারের এই ওয়ার্ডে প্রার্থী ৪ জন। ভোট কেন্দ্র ৭টি।

১৮ নং ওয়ার্ডের নলুয়া পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শহীদনগর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সংঘাতের আশংকা রয়েছে। ২৩ হাজার ২০৮ জন ভোটারের এই ওয়ার্ডে ১০টি ভোট কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ঠেলাগাড়ী ও ঘুড়ি প্রতীকের প্রার্থীর মধ্যেই বিরোধ জ¦লে উঠতে পারে।

এছাড়াও আরো বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে সহিংষতার আশংকা রয়েছে। আগে থেকেই এই সহিংষতা রোধে আগাম কঠোর ব্যবস্থা না নিলে সাধারন ভোটারেরা কেন্দ্রমুখি হবে না।

২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৬২ দশমিক ৩৩ ভাগ ভোটার ভোট দিয়েছিলেন। বিএনপি ওই নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে অংশ নিয়েছিল। এবার বিএনপি অংশ নেয়নি। আগামী ১৬ জানুয়ারী ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে। ১৯২টি ভোট কেন্দ্রে ১ হাজার ৩৩৩টি বুথে প্রস্তুত করা হচ্ছে ৫ লাখ ১৭ হাজার ২৬১ জন ভোটারের ভোট গ্রহনের জন্য। করোনা বেড়ে যাওয়ায় এবং সংঘাতময় পরিস্থিতি হলে ভোটার উপস্থিতি আশংকাজনক হারে কমে যাবে বলে মনে করেন সচেতন ভোটারেরা। বিএনপির দলীয় মেয়র প্রার্থী ও দল সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী না থাকায় বিএনপির বহু ভোটার ভোট কেন্দ্রে না-ও যেতে পারেন। তারপরও সবকিছুর উপরে নির্ভর করছে ভোটের দিনের পরিবেশের উপর।

এই বিভাগের আরো খবর

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.