ব্ল্যাক বক্সে কি কিয়ামতের ঘটনা ধারণ সম্ভব?

ডেস্ক রিপোর্ট

0 51

সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য। তা হলো, কিয়ামতের সময় বা পৃথিবীর শেষের দিনগুলোতে যে যে ঘটনা ঘটবে তা ধরে রাখতে অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া দ্বীপে বসানো হচ্ছে বিশাল আকারের একটি ‘ব্ল্যাক বক্স’। বিষয়টি সচেতন নেটিজেনদের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অনেকের মনেই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, আদৌ কি ব্ল্যাক বক্স দিয়ে কিয়ামতের ঘটনা সংরক্ষণ করা সম্ভব? এ বিষয়েই আমরা আজকে আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।

advertisement

advertisement

ব্ল্যাক বক্সের পরিচয় : ব্ল্যাক বক্স মূলত বিমানে থাকে। এটি এমন একটি যন্ত্র, যাতে ককপিটের যাবতীয় কথাবার্তা এবং বিমানের কারিগরি তথ্য রেকর্ড করা হয়। ব্ল্যাক বক্স নামে ডাকা হলেও এর আসল নাম হলো ফ্লাইট রেকর্ডার। এটি বিমান চলাচলের সর্বশেষ সব তথ্য রেকর্ড করে রাখে। নামে ব্ল্যাক বক্স হলেও এটি কিন্তু কালো কোনো বস্তু নয়। বরং এর রং অনেকটা কমলা ধরনের। এটি অত্যন্ত শক্ত ধাতব পদার্থ দিয়ে তৈরি একটি বাক্স, যা পানি, আগুন, চাপ বা যেকোনো তাপমাত্রায় টিকে থাকে।

যে কাজে ব্যবহৃত হয় : ব্ল্যাক বক্সের মধ্যে দুই ধরনের তথ্য সংরক্ষিত থাকে। একটি হলো ফ্লাইট ডাটা রেকর্ডার বা এফডিআর, যেটি বিমানের ওড়া, ওঠানামা, বিমানের মধ্যের তাপমাত্রা, পরিবেশ, চাপ বা তাপের পরিবর্তন, সময়, শব্দ ইত্যাদি নানা বিষয় নিজের সিস্টেমের মধ্যে রেকর্ড করে রাখে। ককপিট ভয়েস রেকর্ডার (সিভিআর) নামের আরেকটি অংশে ককপিটের ভেতর পাইলটদের নিজেদের মধ্যের কথাবার্তা, পাইলটদের সঙ্গে বিমানের অন্য ক্রুদের কথা, ককপিটের সঙ্গে এয়ার কন্ট্রোল ট্রাফিক বা বিভিন্ন বিমানবন্দরের সঙ্গে রেডিও যোগাযোগের কথা রেকর্ড হতে থাকে।

advertisement

ফলে কোনো বিমান দুর্ঘটনায় পড়লে এই ব্ল্যাক বক্সটি খুঁজে বের করাই হয়ে পড়ে উদ্ধারকারীদের প্রধান লক্ষ্য। কারণ এটি পাওয়া গেলে সহজেই ওই দুর্ঘটনার কারণ বের করা সম্ভব হয়। বাক্সটির রং উজ্জ্বল কমলা হওয়ায় সেটি খুঁজে পাওয়া সহজ হয়। সমুদ্রের তলদেশেও ৩০ দিন পর্যন্ত ব্ল্যাক বক্স অক্ষত থাকতে পারে। পৃথিবীর এই ব্ল্যাক বক্স একেবারে বিমানের ব্ল্যাক বক্সের মতো।

ব্ল্যাক বক্স কি কিয়ামতের গঠনাপ্রবাহ রেকর্ড করতে সক্ষম?

প্রথমত ব্ল্যাক বক্সের কাজ হবে কিয়ামত কিভাবে হলো, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য সংরক্ষণ করা, এর জন্য ব্ল্যাক বক্সের প্রয়োজনই নেই, কারণ কিয়ামত কেন, কিভাবে সংঘটিত হবে, তার বর্ণনা পবিত্র কোরআনে স্পষ্টভাবে দেওয়া আছে, তার পরবর্তী অবস্থা কেমন হবে, তা-ও দেওয়া আছে।

দ্বিতীয়ত কিয়ামত এতটাই ভয়াবহ হবে যে সেদিন ভূপৃষ্ঠের কোনো কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না, মহান আল্লাহর নির্দেশে যখন দায়িত্বশীল ফেরেশতা শিঙায় ফুত্কার দেবে, তখন জমিন ও পর্বতমালা সরিয়ে নেওয়া হবে। এক আঘাতে সব চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে। আর আকাশ বিদীর্ণ হয়ে যাবে। গ্রহ-নক্ষত্র খসে পড়বে। আলো চলে যাবে। সমুদ্রগুলো অগ্নিউত্তাল হয়ে যাবে। সব কিছুই ধ্বংস হয়ে যাবে। ফলে মানুষের তৈরি কোনো ব্ল্যাক বক্সও সেদিন টিকে থাকার কোনো প্রশ্নই আসে না। পাশাপাশি সেই ব্ল্যাক বক্স যাচাই করার কেউও বেঁচে থাকবে না। কারণ কিয়ামতের বিভীষিকাময় দিনে কেউ কারো খোঁজ রাখার সুযোগ থাকবে না। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর যখন শিঙায় ফুঁক দেওয়া হবে—একটি মাত্র ফুঁক। আর জমিন ও পর্বতমালাকে সরিয়ে নেওয়া হবে এবং মাত্র একটি আঘাতে এগুলো চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে। ফলে সেদিন মহাঘটনা সংঘটিত হবে। আর আসমান বিদীর্ণ হয়ে যাবে। ফলে সেদিন তা হয়ে যাবে দুর্বল বিক্ষিপ্ত। ফেরেশতাগণ আসমানের বিভিন্ন প্রান্তে থাকবে। সেদিন তোমার রবের আরশকে আটজন ফেরেশতা তাদের ঊর্ধ্বে বহন করবে। সেদিন তোমাদের উপস্থিত করা হবে। তোমাদের কোনো গোপনীয়তাই গোপন থাকবে না।’ (সুরা : আল-হাক্কাহ, আয়াত: ১৩-১৮)

অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের যা কিছুর ওয়াদা দেওয়া হয়েছে তা অবশ্যই ঘটবে। যখন তারকারাজি আলোহীন হবে, আর আকাশ বিদীর্ণ হবে, আর যখন পাহাড়গুলো চূর্ণ-বিচূর্ণ হবে, আর যখন রাসুলদের নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত করা হবে; কোন দিনের জন্য এসব স্থগিত করা হয়েছিল? বিচার দিনের জন্য। আর কিসে তোমাকে জানাবে বিচার দিবস কী? মিথ্যারোপকারীদের জন্য সেদিনের দুর্ভোগ!’ (সুরা : আল-মুরসালাত : ৭-১৫)

মহান আল্লাহ সবাইকে কঠিন বিচারের দিনে প্রিয় নবীজির সুপারিশ পাওয়ার তাওফিক দান করুন।

এই বিভাগের আরো খবর

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.