২০২৩ সালে মেসেঞ্জার-ইনস্টাগ্রামে আসবে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন

ডেস্ক রিপোর্ট

0 3

মেসেঞ্জার ও ইনস্টাগ্রামের মেসেজিং সেবায় ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন’ সুবিধা যোগ করার সুযোগ থাকলেও আপাতত ‘ডিফল্ট’ ফিচার হিসেবে যোগ হচ্ছে না এটি। ফেইসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা বলছে, ২০২৩ সালের আগে মেসেঞ্জার ও ইনস্টাগ্রামে ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন’ সেবা যোগ করার কোনো পরিকল্পনা নেই।

advertisement

advertisement

২০২০ সালে মেসেঞ্জার ও ইনস্টাগ্রামের মেসেজিং সংযুক্ত করে এক প্ল্যাটফর্ম থেকে আরেক প্ল্যাটফর্মে মেসেজ পাঠানোর ফিচার যোগ করেছে ফেইসবুক। সব প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে একটি একীভূত মেসেজিং সেবা দাঁড় করানোর পরিকল্পনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

হোয়াটসঅ্যাপে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন সেবা আগে থেকে চালু থাকলেও মেসেঞ্জার ও ইনস্টাগ্রামে ২০২৩ সালের আগে ফিচারটি চালু করার কোনো পরিকল্পনা মেটা’র নেই বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান।

advertisement

মেটা বলছে, “জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টায় সহযোগিতা” করার পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের নিরাপদ রাখতে চায় তারা। ব্রিটিশ দৈনিক টেলিগ্রাফে দেওয়া এক পোস্টে মেটা’র নিরাপত্তা প্রধান অ্যান্টিগনি ডেভিস এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন সেবার বিলম্বের কারণ হিসেবে ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথা বলেছেন। ডেভিস বলছেন, নিজস্ব প্ল্যাটফর্মে অপরাধী কর্মকাণ্ড মোকাবেলার সক্ষমতা খর্ব করতে চায় না মেটা।

ছবি: রয়টার্সছবি: রয়টার্সএন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন সেবায় প্রাপক আর প্রেরক বাদে আর কেউ মেসেজ দেখার সুযোগ পায় না। অপরাধীরা এই নিরাপত্তা ফিচারটির অপব্যবহার করবে বলে আশঙ্কার দিকেই ইঙ্গিত করেছেন ডেভিস। এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন ডিফল্ট ফিচার হিসেবে কার্যকর হলে মেটা “অ্যাকাউন্টের তথ্য, ব্যবহারকারীদের অভিযোগ আর সব অ্যাপ থেকে পাওয়া নন-এনক্রিপ্টেড ডেটার সংমিশ্রণ ব্যবহার করে সেবাগ্রাহকদের নিরাপদ রাখার চেষ্টাকে সহযোগিতা করবে” বলে জানিয়েছেন ডেভিস। আর এর সবটাই হবে “জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টায় সহযোগিতার” পাশাপাশি।

চলতি বছরেই এক ব্লগ পোস্টে মেটা বলেছিল, মেসেঞ্জার ও ইনস্টাগ্রামে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন চালু হলেও তা ২০২২ এর আগে নয়। কিন্তু ডেভিস এখন বলছেন কাজটি “ঠিকভাবে” করতে চান তারা, তাই ফিচারটির অভিষেকের আনুমানিক সময় পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে ২০২৩ সালে।

বিবিসি জানিয়েছে, ২০২৩ সালে কার্যকর হবে যুক্তরাজ্যের ‘অনলাইন সেইফটি বিল’। অনলাইনের শিশুদের নিরাপদ রাখতে এবং নিপীড়নমূলক কন্টেন্টের ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্ল্যাটফর্মগুলোকে বাধ্য করবে আইনটি। নতুন আইনটিও মেটা’র বিলম্বের কারণ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছে বিবিসি।

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিতি পাটেল এর আগেও অপরাধীদের এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে সমালোচনা করেছেন। বিবিসি’র প্রতিবেদন বলছে, এই প্রযুক্তি অনলাইনে শিশু নিপীড়নের মোকাবেলা আরও কঠিন করে তুলতে পারে বলে মনে করেন পাটেল।

“দূঃখের বিষয় হচ্ছে, যখন আমাদের আরও বেশি তৎপর হওয়া প্রয়োজন… ফেইসবুক এখনও এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে যাতে এখন পর্যন্ত হওয়া অগ্রগতি ঝুঁকির মুখে পড়ছে।”– বিবিসি’কে বলেন পাটেল।

গেল বছর যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, নিউ জিল্যান্ড, কানাডা, ভারত এবং জাপানের সঙ্গে জোট বেঁধে এনক্রিপশন প্রযুক্তিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ‘ব্যাকডোর অ্যাক্সেস’ দাওয়ার আহ্বানে যোগ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সফল হলে, আদালতের সমনের ভিত্তিতে এনক্রিপ্টেড মেসেজ ও ফাইল দেখার সুযোগ পাবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো।

এই বিভাগের আরো খবর

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.