প্যাসিফিক লিংকড মাছ, মুখে রয়েছে ৫৫৫টি দাঁত

ডেস্ক রিপোর্ট

0 11

প্যাসিফিক লিংকড মাছ, এটি হলো পৃথিবীর সবথেকে বেশি দাঁতওয়ালা মাছ। এই মাছের দাঁতের সংখ্যা শুনলে চমকে যাবেন। প্যাসিফিক লিংকড মাছের মুখের ভেতর রয়েছে ৫৫৫টি দাঁত। এই মাছের ২০টি করে দাঁত পড়ে যায় প্রতিদিন। আর গজায় ২০টি করে দাঁত।

advertisement

advertisement

এই ৫৫৫টি দাঁত মুখের ভেতরে দুই জোড়া মাঁড়িতে রয়েছে। আর এই মাছের মুখে যে প্রাণী ধরা পড়ে, সে চারদিক থেকে আটকে যায়। একবারেই এই মাছটি তার শিকারকে টুকরো টুকরো করে ফেলতে সামান্য সময় লাগে না। এই মাছ আর কী করে, আসুন জেনে নিই। এই মাছ কি মানুষের জন্য ক্ষতিকারক, তাও জেনে নেয়া যাক-

সবচেয়ে বেশি দাঁত নিয়ে ঘুরে-ফিরে বেরাচ্ছে যে মাছটি সেটি হলো প্যাসিফিক লিংকড। সম্প্রতি এই মাছের ব্যাপারে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, এই মাছগুলো প্রতিদিন ২০টি করে দাঁত হারায়। আর সেই সংখ্যক দাঁত গজায়ও। মানে যতগুলো দাঁত পড়ে যায়, ততগুলোই গজায়। মানুষের দাঁত পড়ে গেলে তা উঠতে বা গজাতে অনেক সময় লাগে, তবে এই মাছের ক্ষেত্রে অবিশ্বাস্য দ্রুত দাঁত ফিরে পায়।

advertisement

ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াশিংটনের বায়োলজি বিভাগের গবেষক কালি কোহন জানাচ্ছেন, প্যাসিফিক লিংকড মুখের হাড়ের ভেতর থেকে পুরোপুরি দাঁতের প্য়াক। বিজ্ঞানের ভাষায় এটিকে বলে ওফিওডন এলঙ্গাটাস। এটি একটি শিকারি মাছ। প্রশান্ত মহাসাগরের উত্তর অংশ দেখা যায় এটিকে। প্যাসিফিক লিংকড লম্বায় ২০ ইঞ্চির মতো হয়। তবে কোনো কোনো মাছ লম্বায় ৫ ফুট পর্যন্ত হয়।

এই মাছের মুখ কী করে কাজ করে, এতোগুলোর দাঁত কী করে হলো, এই সব প্রশ্নের জবাব খোঁজার জন্য বিজ্ঞানীরা সেটি ধরেন। তারা খোঁজ করেন। আর তারপর অনেক তথ্য উঠে আসে। এই মাছের মুখের মধ্যে ইনসিজার্স, মোলার্স এবং ক্যানাইনের মতো দাঁত থাকে না। শুধু ধারালো মাইক্রোস্কোপিক দাঁত থাকে। এই দুই জোড়া মাড়ি রয়েছে। যার ভেতরের অংশ বেশ শক্ত। সেখানে সূক্ষ্ম দাঁত থাকে। প্রতি মাড়ির পিছনে এক সাপোর্টিভ মাড়ি থাকে। আর এই মাছ মাড়ির সাহায্য়েই শিকার ধরে। মানুষ যেমন মোলার্স দাঁতের সাহায্যে কোনো জিনিস চিবোয়, ঠিক তেমনই।

এই মাছের দাঁতের গুণ কোনো স্তন্যপায়ী প্রাণীর সঙ্গে করলে বুঝতে পারব, সেটি কত আলাদা। আর এখানেই চমক লুকিয়ে রয়েছে। সেগুলোর মুখে লাগাতর দাঁত উঠতে থাকে। তাই ঐ মাছ দাঁত ফেলে দেয়। এই প্রক্রিয়া চলতেই থাকে। এই মাছের দাঁত এতোই ছোট হয় যে তা ভেঙে যাওয়ার ঘটনা দেখতে পাওয়া খুব মুশকিল।

এই বিভাগের আরো খবর

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.