মোংলা-ঘষিয়াখালী নৌপথে কোটি টাকার উপরে ব্যয়, তবুও হুমকির মুখে 

বাগেরহাট প্রতিনিধি

0 16

মোংলা-ঘষিয়াখালী নৌপথ সচল রাখতে বেশ বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

advertisement

advertisement

প্রতিদিন ড্রেজিং করে নৌপথ সচল রাখা হলেও মাটি ফেলার জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। এরই মধ্যে নদীর দুই পাশের মাঠঘাট, পুকুর ও খাস জমি ভরাট হয়ে গেছে। আবার ভরাট জায়গা দখল হয়ে যাওয়ায় মাটি ফেলার জায়গার সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুল মতিন বাংলা ফোকাস বিডিনিউজকে বলেন, উজান থেকে প্রতিবছর প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন টন পলি মোংলা-ঘষিয়াখালী নৌপথে আসে। এ কারণে নৌপথটি সচল রাখতে নিয়মিত ড্রেজিং করতে হয়। বর্তমানে প্রতিদিন চারটি ড্রেজার দিয়ে খননকাজ করা হয়।

advertisement

এতে বছরে খরচ প্রায় ৬০ কোটি টাকা। কিন্তু সমস্যা হলো ড্রেজিং করা বিপুল পরিমাণ মাটি ফেলার জায়গা নাই তিনি বলেন, সাধারণত নদীর তীর কিংবা কাছাকাছি স্থানে ডাইক (মাটি দিয়ে ঘেরাও করা স্থান) নির্মাণ করে ড্রেজিংয়ের মাটি ফেলতে হয়। এখন আর জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না, যেখানে ডাইক নির্মাণ সম্ভব। আগের ডাইকগুলোতে মাটি ফেলতে ফেলতে ৭-৮ ফুট উঁচু হয়ে গেছে। সেগুলো ধারণক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি আমরা।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) বাগেরহাট জেলার আহ্বায়ক মো. নূর আলম শেখ বাংলা ফোকাস বিডিনিউজ কে বলেন, মোংলা-ঘষিয়াখালী নদী খননের ফলে নৌপথটি সচল হচ্ছে এটি মনে করছি না।

কারণ এখানে সরকারি অর্থের বিরাট অপচয় হচ্ছে। ড্রেজিংয়ের পরিকল্পনায় এক ধরনের ত্রুটি আছে। কারণ এখানে একপাড় ভরাট হচ্ছে, সেই ভরাটের বালু এসে আবার নদীতে পড়ছে। ড্রেজিংয়ের ফলে সরকারি সংস্থা ও রাজনৈতিক দলের সাইনবোর্ড দিয়ে এক ধরনের দখলও বেড়েছে।

বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আনিছুজ্জামান রকি বাংলা ফোকাস বিডিনিউজকে বলেন, প্রতিদিন নৌপথে ড্রেজিং হচ্ছে। ড্রেজিংয়ের মাটি যে জায়গায় ফেলা হচ্ছে সেটি রাতারাতি বিভিন্ন সংস্থা দখল করে নেওয়ায় বিপাকে পড়েছি আমরা।

নতুন করে জায়গা না পাওয়ায় খননকৃত মাটি ফেলা যাচ্ছে না। এ জন্য খননকাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। হুমকির মুখে পড়ছে নৌপথ। সরকারের উচ্চ মহলে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

মোংলা বন্দর ব্যবহারকারী শেখ হেমায়েত হোসেন বলেন, মোংলা বন্দরের স্বার্থে নৌপথটি সংরক্ষণ করা এবং নাব্যতা ধরে রাখা খুবই জরুরি। এটি করা না গেলে নৌপথটি আবার বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবো আমরা।

এই বিভাগের আরো খবর

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.