চাটমোহরে ৫৪টি মন্ডপে দূর্গাপূজার প্রস্তুতি চলছে, ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা

হেলালুর রহমান জুয়েল, চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি

0 50

পাবনার চাটমোহরে এবার দূর্গাপূজার সংখ্যা বেড়েছে। এবার ৫৪টি মন্ডপে চলছে পূজার প্রস্তুতি। গতবছর ৪৭টি মন্ডপে অনুষ্ঠিত হয় দূর্গাপূজা। যা গতবারের চেয়ে ৭টি বেশি।

আসন্ন দূর্গাপূজাকে সামনে রেখে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাটমোহরের মৃৎশিল্পীরা। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহেই হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব দূর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। বাঙালী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গাপুজা। কাজের চাপ বেড়ে গেছে প্রতিমা কারিগরদের। রাতদিন পরিশ্রম করে নিপুণ হাতে তৈরি করছেন দেবী দুর্গাকে।

চাটমোহর উপজেলার সবচেয়ে বেশি দূর্গা প্রতিমা তৈরি করেন উপজেলার বেলগাছি গ্রামের অমল চন্দ্র পাল ও তার স্ত্রী দিপা রানী পাল। তারা এবার ৩৩টি প্রতিমা তৈরির কাজ হাতে নিয়েছেন। গত ২০ বছর ধরে প্রতিমা তৈরি করে আসছেন এ দম্পতি। একই গ্রামের অপূর্ব পাল ও তার স্ত্রী সুচিত্রা পাল তৈরি করছেন ১৩টি প্রতিমা আর সনাতল পাল বানাচ্ছেন ১৫টি প্রতিমা। তারা আর অর্ডার নিচ্ছেন না। প্রতিদিনই বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিমা তৈরির জন্য তাদের কাছে আসছেন লোকজন।

এছাড়া উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের বোঁথর গ্রামের সৌরেশ চক্রবর্তী ও কৈলাস চক্রবর্তী তৈরি করছেন ১২টি দূর্গা প্রতিমা। তারাও আর অর্ডার নিচ্ছেন না। তারা জানালেন,ইতিমধ্যে অর্ধেকের বেশি প্রতিমাতে মাটি লাগানোর কাজ শেষ করেছে। পূজা শুরুর ১০-১২ দিন আগে রঙের কাজ শুরু করবেন। তখন রং-তুলির আঁচরে প্রতিমাগুলোকে জীবন্ত রূপে ফুটিয়ে তোলা হবে বলে জানান অমল চন্দ্র পাল ও কৈলাস চক্রবর্তী। এক একটি প্রতিমা তৈরিতে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা নিচ্ছেন এসকল প্রতিমা শিল্পীরা। কথা প্রসঙ্গে তারা বললেন,করোনার কারণে কাজ কমেনি। বরং বেড়েছে। বাজারে প্রতিমা তৈরির সব উপকরণের দাম বেড়েছে। তারপরও তারা সুন্দর কাজ উপহার দিতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মৃৎশিল্পীরা।

শিল্পী কৈলাস চক্রবর্তী। ছোটবেলা থেকেই দাদা-বাবাদের কাছে কাজে তার হাতেখড়ি। ভারত থেকে কাজ শিখেছেন। রাত দিন পরিশ্রম করে প্রতিমা তৈরি করে যাচ্ছেন কৈলাস। এবারে তিনি ১২টি মন্দিরে প্রতিমা তৈরির কাজ হাতে নিয়েছেন।

উপজেলার বেলগাছি ও বোঁথর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মনের মাধুরী মিশিয়ে কারিগররা নিখুঁতভাবে তৈরি করছেন দুর্গা দেবীর প্রতিমাকে। পাশাপাশি চলছে লক্ষ্মী,সরস্বতী,গণেশ ও কার্তিক,অসুর, সিংহ, মহাদেবসহ অন্যান্য প্রতিমা তৈরির কাজ।

উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর দত্ত চৈতন্য জানান,এ বছর চাটমোহর উপজেলার ৫৪টি মন্ডপে অনুষ্ঠিত হবে দুর্গাপূজা। গত বছর ছিল ৪৭টি। আগামী ১১ অক্টোবর ষষ্টীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা।

উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক অশোক চক্রবর্তী বলেন,মন্দিরে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক স্বাস্থ্যবিধি মেনে দুর্গোৎসব পালনের জন্য সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের জন্য তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

এই বিভাগের আরো খবর

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.