অবৈধভাবে বিদেশ গিয়ে লাশ হয়ে ফিরছেন মাদারীপুরের যুবকেরা

ডেস্ক রিপোর্ট

0 11

প্রশাসন বলছে, মানব পাচারকারীদের তালিকা না থাকায় ব্যবস্থা নিতে পারছেন না তারা। এদিকে, দালাল চক্রের অধিকাংশই লাপাত্তা। আর এ ব্যাপারে কথা বলতে রাজি হচ্ছে না পরিবারের কেউই।

জানা যায়, অবৈধভাবে সমুদ্রপথে বিদেশ যাত্রাকালে গত ৫ বছরে নৌকাডুবিতে মারা গেছে মাদারীপুরের ৪ উপজেলার অর্ধশত যুবক। এখনও নিখোঁজ কয়েক’শ মানুষ। তবুও থামছে না অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা। গ্রামের সহজ সরল যুবকদের উন্নত জীবনের স্বপ্ন আর রাতারাতি ধনী হওয়ার প্রবণতা দেখিয়ে বিদেশে পাঠাচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ জনের দালাল চক্রের সিন্ডিকেট। দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটি হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। নীরব প্রশাসনও।

স্বজনরা জানায়, প্রথমে লোভ দেখিয়ে লিবিয়া পাঠায় দালাল চক্র। পরে নৌকা বা ছোট ট্রলারে করে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে যুবকদের বাধ্য করে তারা। এতে প্রাণ হারাতে হয় অনেককেই। এছাড়া দালালদের চাহিদা মতো টাকা দিতে না পারায় শুরু হয় শারীরিক নির্যাতন। এমনকি তুলে দেওয়া হয় লিবিয়ার মাফিয়াদের হাতে।

সময় নিউজের হাতে এসেছে এমনই একটি দালাল চক্রের নামের তালিকা। ওই চক্রের সদস্যরা হলেন, মাদারীপুর সদর উপজেলার বড়াইলবাড়ির জামাল খাঁ ও রুবেল খাঁ, শ্রীনাথদি বাজিতপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর হাওলাদার, কুমড়াখালীর এমদাদ বেপারী, ধুরাইল ইউনিয়নের চাছার গ্রামের ইউসুফ খান জাহিদ, পেয়ারপুর ইউনিয়নের নয়াচর গ্রামের মহসিন মাতুব্বর ও মিজান মাতুব্বর, গাছবাড়িয়া গ্রামের নাসির শিকদার, রাজৈর উপজেলার বদরপাশা গ্রামের জুলহাঁস তালুকদার, শাখারপাড় গ্রামের কামরুল মোল্লা, এমরান মোল্লা, আমগ্রাম ইউনিয়নের কৃষ্ণারমোড় এলাকার শামীম ফকির, সম্রাট ফকির, শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের শহিদুল মাতুব্বর ও সিরাজ মাতুব্বর।

রাজৈর উপজেলার বদরপাশা ইউনিয়নের শাখারপাড় এলাকার পারভীন বেগম অভিযোগ করে বলেন, তার ছেলে সুমন মোল্লাকে হাসানকান্দি এলাকায় দালাল হানিফের মাধ্যমে ইতালি পাঠানোর কথা হয়। সেই মোতাবেক সাড়ে ৭ লাখ টাকা হানিফের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে লিবিয়া গিয়ে আমার ছেলেকে কয়েক দফা বিক্রি করে দেয় দালাল চক্র। বর্তমানে আর লিবিয়ান পুলিশের হাতে আমার ছেলে সুমনসহ আটকা আছে অন্তত ৪৫ জন। এই দালাল হানিফ শ্রীনদীতে তিনতলা বাড়ি করেছে। অবৈধভাবে কোটি কোটি আয় করছে দালালরা। এর বিচার চাই।

একই এলাকার কেরামত আলী ফকির জানান, দালাল কামরুল মোল্লা আমার ছেলেকে লোভ দেখিয়ে ইতালি পাঠানোর কথা বলে। মাঝপথে লিবিয়া গিয়ে নিখোঁজ তিন মাস ধরে। এখন আমার ছেলের কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। এ ব্যাপারে রাজৈর থানায় একটি মানবপাচার আইনে মামলা করেছি।

মাদারীপুরে সচেতন নাগরিক কমিটির সাবেক সভাপতি সাহান নাসরিক রুবি বলেন, প্রশাসন তৎপর হলেই কমবে অবৈধ পথে বিদেশ যাত্রা। প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে এই দালাল চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ পথে মানবপাচার করলেও তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। প্রশাসনের উচিৎ দালাল চক্রকে খুঁজে বের করে এদের কঠিন বিচারের আওতায় আনা।

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল বলেন, মূলত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো সহজে অভিযোগ দিতে চায় না। যদি দালাল চক্রের কোন অভিযোগ পেলে তাহলে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন জানান, যদি দালাল চক্রের তালিকা পাওয়া যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.