টিকে আছে শত বছরের ঐতিহাসিক শ্রী শ্রী রাধা কালাচাঁদ মন্দির

বছির আহমেদ, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

0 254

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরউপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের পাকুল্লা গ্রামে ২৩৩ বছরের ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী রাধা কালাচাঁদ বিগ্রহ অবস্থিত। স্থানীয় লোকজনের সূত্র মতে জানা যায়, এটি প্রথম নির্মিত হয় ১১৯৫ বঙ্গাব্দে। রাম মোহন সাহা ও গৌর মোহন সাহা দুই সহোদর ভাই এই মন্দির প্রতিষ্ঠাতা করেন। কিন্তু বর্তমানে তাদের কোন বংশধর এই এলাকায় বসবাস করেন না এবং তাদের কোন খোজ খবর পাওয়া যায় নাই।

পরে মন্দিরটি আবার দ্বিতীয় সংস্কার করা হয় ১৩৭৬ বঙ্গাব্দে এবং তৃতীয় সংস্কার করা হয় ১৪২৩ বঙ্গাব্দ বা ২০১৬ সালে।

নিখুঁত কারুকার্য ও ধর্মীয় দেবতার চিত্রাংকন এবং স্বর্ণের রং এর প্রলেপ দেওয়ায় স্থানীয় লোকজন এই মন্দির কে স্বর্ণমন্দির বলে ডেকে থাকে।
মির্জাপুর উপজেলার পুজা উৎযাপন কমিটির যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক তপন কুমার শেঠ বলেন, কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাষ্ট বিডি লিঃ এর ব্যবস্থপনা পরিচালক রাজীব প্রাসাদ সাহা মন্দির কমিটির নিমন্ত্রণে এসে তিনিও এর কারুকার্য ও স্বর্ণের রং দেওয়ার করণে স্বর্ণমন্দির বলে আখ্যায়িত করেন। তবে নামকরণে স্বর্ণমন্দিরের লিখিত নথিপত্র নেই।

কথিত এই স্বর্ণমন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের ১২ মাসের ১৩ পার্বণে প্রায় সব ধরনের ধর্মীয় উৎসব এখানে পালন করা হয়। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, মহাযজ্ঞ, ৫৬ প্রহরব্যাপী নাম যজ্ঞ অনুষ্ঠান, দুলন যাত্রা, রথ যাত্রা, শ্রী কৃষ্ণের জন্ম অষ্টমী, প্রতিদিন তিনবেলা নৃত্য পুজা ও ভোগ আরতি করা সহ অন্যান্য সব ধরনের পুজাই এখানে করা হয়। এছাড়াও এই মন্দিরে আরো রয়েছে অতিথি শালা, নাট্য মন্দির, শিব মন্দির, শ্রী তারকনাথ ভোলা নাথ মন্দির এবং অন্যান্য নির্মাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

কিন্তু এই নাম করা কালাচাঁদ বিগ্রহ মন্দির ওরফে স্বর্ণমন্দিরে একটাই প্রধান সমস্যা রয়েছে তা হচ্ছে যাতায়াত সমস্যা। মন্দিরের পাশে গাড়ী পার্কিং ব্যবস্থা থাকলেও পর্যাপ্ত রাস্তা না থাকার কারণে যে কোন ধর্মীয় উৎসবে দূরবর্তী লোকজনের সরগরম হয় না। এই মহল্লার লোকজন ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য নেই কোন সু- ব্যবস্থা। যে কোন দূর্ঘটনায় ফয়ার সার্ভিস ও এ্যাম্বোলেন্স আসার নেই কোন সঠিক রাস্তা। তাই যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় দরনের দূর্ঘটনা।

কালাচাঁদ বিগ্রহ মন্দির কমিটির যুগ্ম- সাধারণত সম্পাদক তাপস শেঠ বলেন, স্বর্ণমন্দিরে আসার জন্য রাস্তা দুই দিক থেকেই আছে কিন্তু রাস্তা প্রসস্থ নাথাকায় বড় যানবাহন আসতে পারে না। ইতোমধ্যে একটি রাস্তা বরাদ্দ হয়ছে কিন্তু প্রতিবন্ধকতার কারণে পুরো রাস্তাটি প্রসস্থ করা যাচ্ছে না। এজন্য তিনি রাজনৈতিক ব্যাক্তি ও সুশীল সমাজের মানুষের কাছে সাহায্য-সহযোগিতা কামনা করছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জামুর্কী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আলী এজাজ খান চৌধুরী (রুবেল) বলেন, এটি প্রাচীনতম হিন্দু ধর্মের একটি ঐতিহ্যবাহী মন্দির। জনবহুল এই মহল্লার ও মন্দিরের প্রধান সমস্যা হচ্ছে পর্যাপ্ত রাস্তা না থাকা। একটি রাস্তা বরাদ্দ হয়েছে কিন্তু স্থানীয় দুই পরিবারের কারণে রাস্তা প্রসস্থর কাজ কিছুটা বন্ধ রয়েছে। তাদের সাথে সমন্বয় করে দরকার হয় জমির মূল্য দিয়ে হলেও রাস্তার কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করতেছি এবং মন্দিরে রাস্তা তৈরী হলে পাকা রাস্তা বা পীচ ঢালায় করে দেয়া হইবে।

এই বিভাগের আরো খবর

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.