চাটমোহরের বড়াল নদ এখন আবর্জনার ভাগাড়!

হেলালুর রহমান জুয়েল,চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি

0 30

পাবনার চাটমোহর উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত এক সময়ের খর¯্রােতা বড়াল নদ এখন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। বড়ালের দখল আর দূষণ এখন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বড়াল পাড়ের মানুষসহ এর আশপাশের হাট-বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ ময়লার দূর্গন্ধে অতিষ্ঠ। একই সাথে নদের বিভিন্ন স্থানে আবাদ হচ্ছে ধান,পাট,শাক-সবজিসহ নানা ফসলের। সময়ের বিবর্কনে বড়াল দখণ হয়েছে। ভরাট হয়ে পলি পড়ে সংকুচিত হয়ে গেছে। বিগত ৪ দশক বড়াল নদের উপর চলেছে মানুষের অত্যাচার। ৮০’র দশকে বড়ালের উৎপত্তিস্থল রাজশাহীর চারঘাটে পানি উন্নয়রন বোর্ড জলকপাট নির্মাণ করে বড়ালের মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর সবই ইতিহাস। এক বড়ালের কারণে একে এক অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে চলনবিলের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত নদী,খাল-বিল।

সরেজমিনে বড়াল নদের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে,বড়াল নদের বিভিন্ন এলাকায় দখলদাররা বেপরোয়া। ইচ্ছেমতো নদের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করছে। হাট-বাজার,বাসা-বাড়ি,হোটেল-রেস্তোরা ও পৌরসভার ময়লা ফেলা হচ্ছে বড়ালে। চাটমোহর পুরাতন বাজারের মুরগী ব্যবসায়ীরা তাদের মুরগীর বর্জ্য দেদারছে বড়ালে ফেলছে। এ এলাকার সকল হোটেল-রেস্তোরা আর হাসপাতালের বর্জ্যও ফেলা হচ্ছে বড়ালের বুকে। দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ পথচারী ও বাজারে আগত মানুষজন। একই অবস্থা ভাঙ্গুড়ার দহপাড়া থেকে বড়াইগ্রামের জোনাইল পর্যন্ত। শুধু ময়লা-আবর্জনা আর দখল-দূষনই নয়। গোটা বড়ালেই চাষাবাদ করা হচ্ছে বোরো ধানসহ নানা ফসলের।

চাটমোহর পুরাতন বাজারের মাংস বিক্রেতা জমির উদ্দিন বললেন,যেভাবে ময়লা ফেলা হয়,তাতে ময়লাতেই এই নদী ভরে যাবে। আর ময়লার দুর্গন্ধে কেউ থাকতে পারেনা। পৌরসভা ও কোন সরকারি অফিসই এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেয়না।
চাটমোহরের বোঁথর গ্রামের বাসিন্দা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সাজেদুর রহমান মাস্টার বললেন,এক সময় বড়ালের গভীরতা ছিল। বড় বড় নৌকা চলতে। সেদিন এখন অতীত। তৎকালীন বিএনপি সরকারের সময় নদীতে একাধিক ক্রস বাঁধ নির্মাণ করে জলাশয়ে রুপান্তর করা হয় মাছ চাষের জন্য। সেই থেকে বড়াল তার অস্তিত্ব হারিয়েছে। নদীতে আর পানি আসেনা।

বড়াল রক্ষা আন্দোলন কমিটির সদস্য সচিব এস এম মিজানুর রহমান বলেন,২০০৮ সালে আমরা বড়াল রক্ষায় আন্দোলন শুরু করি। দীর্ঘদিনের আন্দোলন সংগ্রামের ফলে বড়ালের বুকে দেওয়া ক্রসবাঁধসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া বাঁধ অপসারণে করা হয়েছে। নির্মাণ হয়েছে একাধিক ব্রিজ। তিনি বলেন বড়ালকে ক্যাপিটাল ড্রেজিং এর আনতে হবে। একইসাথে উচ্ছেদ করতে হবে অবৈধ দখলদারদের। বড়ালের দখল-দূষণ বেড়েছে। সরকারকে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.সৈকত ইসলাম বলেন,বড়ালকে রক্ষা করতে হবে। নদী বাঁচলে পরিবেশ বাঁচবে। দেশ বাঁচবে। সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক বড়ালের দখল ও দূষণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.