পাইকগাছায় খাবার পানির তীব্র সংকট

মহানন্দ অধিকারী মিন্টু, পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি

0 10

খুলনার পাইকগাছায় সুয়েপ ও খাবার পানির তীব্র সংকট। সংকট নিরসনে সরকারি-বেসরকারিভাবে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও তা ৪ লক্ষাধিক মানুষের চাহিদা পূরণে নিতান্তই অপ্রতুল। লবণ পানি অধ্যুষিত বিপুল জনগোষ্ঠির খাবার পানি প্রধান উৎস্য ৩ হাজার ৫১৮টি অগভীর নলকূপ।

তবে অধিকাংশ নলকূপে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক ও আয়রণের পরিমাণ বেশী থাকায় তা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে আছে দীর্ঘদিন। আবার অনেকে সূপেয় পানির সংকটে তা পান করে আর্সেনিকসহ বিভিন্ন পানিবাহিত দূরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লবণ পানি অধ্যুষিত এলাকার শিশু-কিশোর, স্কুল- কলেজের ছাত্র/ছাত্রী ও মহিলারা বিভিন্ন পানির পাত্র নিয়ে খাবার পানির সন্ধানে ছুঁটে যায় সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন পানি প্রকল্পগুলোতে।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় অগভীর নলকূপ রয়েছে ৩ হাজার ৫১৮টি। উপজেলার হরিঢালী ৫০৮টি, কপিলমুনি ৫১৮টি, লতা ২১৭টি, দেলুটি ২৪০টি, সোলাদানা ১৯৬টি, লস্কর ২৯৬টি, গদাইপুর ৫৪০টি, রাড়–লি ৫০৭টি, চাঁদখালি ৩৯৯টি ও গড়ইখালী ইউনিয়নে ১৯৬টি অগভীর নলকূপ রয়েছে।

এছাড়া ভিএসএসটি ৩১টি, এসএসটি ৬১৮টি, রেইন ওয়াটার হার্ভেষ্টিং ৭৪৮টি ও পিএসএফ ৪৯৪টি থাকলেও অধিকাংশ আর্সেনিক ও লবণাক্ততার কারনে তা পানযোগ্য নয়। পাইকগাছা পৌরসভার সরলের ৩টি পানির ফিল্টার থেকে ১ টাকা লিটার পানি কিনে পানীয় জলের চাহিদা মেটাচ্ছে। যদিও তা যথেষ্ঠ মান সম্পন্ন নয়।

চলতি অর্থ বছরে উপজেলার সোলাদানা, লস্কর ও গড়ুইখালি ইউনিয়নে ৩ হাজার লিটার ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ১৯৮৫টি পানি ট্যাংক। ৫ ইউনিয়নের ৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থাপন করা হয়েছে, ২৫ হাজার লিটার পানি ধারণ ক্ষমতা ৫টি রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং সিস্টেম। তবে কোনো কিছুতেই যেন নিরসন হচ্ছে না খাবার পানি সংকট।এই উপজেলারবেশিরভাগই নলকূপগুলোতে রয়েছে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক ও আয়রণ।

উপজেলার শামকপোতা, বাহিরবুনিয়া গদারডাঙ্গা, পুটিমারী, পুতুলখালী, হাড়িয়া, পানারাবাদ, তেঁতুলতলা, হানি মুনকিয়া, কাঠামারী, গঙ্গারকোনা, লতা সদর সহ সেখানকার প্রায় সবকটি গ্রাম। কপিলমুনির চিনেমলা, গোয়ালবাথান, প্রতাপকাটি, কাজীমুছা, মালত, নাবা, ভৈরবঘাটা, বিরাশি, শ্যামনগর, বারইডাঙ্গা, শিলেমানপুর সহ কয়েকটি গ্রাম, দেলুটি, সোলাদানা, লস্কর, গড়–ইখালী ও ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি খাবার পানি সংকট।

এই বিভাগের আরো খবর

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.