নীলফামারীতে এমপি মনোনীত ব্যক্তি নিয়ে বিরোধ

নীলফামারী প্রতিনিধি

0 272

হরিশচন্দ্র পাঠ স্কুল এ্যান্ড কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মনোনয়নকে কেন্দ্র করে রক্ত ঝড়েছে নীলফামারীর জলঢাকায়।

সোমবার দুপুরে হামলার ঘটনায় আহত হয়েছেন জলঢাকা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহেদ বাহাদুর ও স্থানীয় ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম।

এরমধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যানকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং অপরজন নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এ ঘটনায় দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ। তারা হলেন হরিশ্চন্দ্রপাঠ সুরিপাড়া এলাকার কাল্টু মামুদের ছেলে আনিছুর রহমান (৩৫) ও একই এলাকার ঝড়– মামুদের ছেলে লোকমান হোসেন (৫০)।

জানা গেছে পরিচালনা পর্ষদবিহীন চলছে প্রতিষ্ঠানটি। গেল দু’মাস থেকে বেতন ভাতা বন্ধ রয়েছে শিক্ষক কর্মচারীদের। এরই মধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য মেজর(অব.) রানা মোহাম্মদ সোহেল সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল আলম সিয়ামকে সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দেন প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পর্ষদের জন্য। এটি গ্রহণ করছিলেন না স্থানীয়রা।

প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক বিষয় নিয়ে সোমবার আয়োজন করা হয় শিক্ষক ও অবিভাবকদের নিয়ে মতবিনিময় সভা। সেখানে সংসদ সদস্য, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, নীলফামারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, জলঢাকা পৌরসভার মেয়র উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্যের মনোনিত সভাপতি নিয়ে উত্তেজনা শুরু হলে একপর্যায়ে সংঘর্ষে রুপ নেয়। এতে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহেদ বাহাদুর ও স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জাতীয় পার্টির নেতা শফিকুল ইসলাম আহত হন।

আহত ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, দু’মাস ধরে বেতন ভাতা বন্ধ প্রতিষ্ঠানটিতে। এরআগেও দেখেছি স্থানীয় কেউ না হয়ে বাহিরের মানুষ এসে এখানে সভাপতির দায়িত্ব পান।

আবারো সভাপতি হিসেবে বাহিরের একজনকে দায়িত্ব দেয়ার ঘটনায় বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেন স্থানীয়রা। জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এমপি মনোনীত ব্যক্তিকে সভাপতি হিসেবে মেনে নিতে চাপ দিচ্ছেলেন প্রতিষ্ঠান প্রধানকে অন্যথায় বিলে সই করবেন না বলে জানাচ্ছিলেন।

সোমবার দুপুরে অনুষ্ঠানে অর্তকিত ভাবে আমার উপরে এবং হামলা চালান উপজেলা চেয়ারম্যান ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, সিয়াম নামে যে ব্যক্তিকে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে তিনি আওয়ামীলীগও করেন না, এমনকি জাতীয় পার্টিও করেন না।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহেদ বাহাদুর বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিত কমিটি না থাকায় তা নিরসনের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে মতবিনিময় সভা হওয়ার আয়োজন করা হয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠান প্রধান শিক্ষক সহযোগিতা না করায় এবং তার পরিকল্পনা অনুযায়ী আমার উপর পরিকল্পিত ভাবে হামলা চালানো হয়।

খুটামারা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু সাঈদ শামীম বলেন, মুলত এমপির ডিও প্রাপ্ত ব্যক্তিকে সভাপতি হিসেবে গ্রহণ করছিলেন না স্থানীয় মানুষরা। প্রতিষ্ঠানটিতে স্থানীয় কেউ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করুক সেটি চান তারা।

আজকের অনাকাঙ্খিত ঘটনা মানা, না মানা নিয়ে উৎপত্তি হয়েছে বলে আমি মনে করি। তবে সংসদ সদস্য মেজর(অব.) রানা মোহাম্মদ সোহেল বলেন, প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে বিধি মোতাবেক যা করনীয় ওই প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আমি তাই করেছি। তিনি এও বলেন, এ ঘটনায় কোন স্বার্থান্বেষী মহলের ইন্ধন থাকতে পারে।

জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এ ঘটনায় ইতিমধ্যে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
নীলফামারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম মুক্তারুজ্জামান বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.