পবিপ্রবিতে বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস পালিত

মোঃ সোহেল রানা, পবিপ্রবি প্রতিনিধি

0 26

চিকিৎসকরা শুধুমাত্র চিকিৎসকরাই নিজের নামের শুরুতে ডা.(Dr.) ব্যাবহার করার অধিকার রাখেন, এটা একটি সন্মান,একটি মর্যাদা,একটি পরিচয়। নীতিমালা অনুসারে এই মর্যাদার দাবিদার কেবলমাত্র রেজিস্টার্ড এম.বি.বি.এস, বি.ডি.এস এবং ডি.ভি.এম ডিগ্রিধারীগণ। নীতিমালায় থাকলেও আমাদের কাছে প্রাপ্য সন্মানটুকু অনেকসময় পাননা ডক্টর ওফ ভেটেরিনারি মেডিসিন(ডি.ভি.এম) চিকিৎসকগণ।

২৪ এপ্রিল, বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস, এই চিকিৎসকদের স্মরণে সারা বিশ্বের ন্যায় পবিপ্রবির ভেটেরিনারি স্টুডেন্ট এসোশিয়েশনের হাত ধরে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উৎযাপিত হয়েছে দিনটি। ভেটেরিনারিয়ারা শুধু যে চিকিৎসক হিসেবে ভূমিকা রাখেন তা নয়, গবেষণা কাজে তাদের ভূমিকাও প্রসংশনীয়। বর্তমানে পরিবেশের জন্য অনেকগুলো ঝুঁকির মধ্যে অন্যতম এবং মরাত্নক ঝুঁকি হিসেবে জীব বৈচিত্র ধ্বংস হওয়াকে ঘোষনা করা হয়েছে, গবেষণা বলছে পরিবেশর ভারসাম্য ঠিক রাখতে হলে জীব বৈচিত্র রক্ষার কোন বিকল্প নেই। জীব বৈচিত্র রক্ষার ক্ষেত্রে অন্যতম ভূমিকা রেখে আসছেন ভেটেরিনারিয়ারা,যা সরাসরি ভূমিকা রাখে পরিবেশ রক্ষাত্রে।

এছাড়া মানবউপকারে আসা জীবগুলো সনাক্তকরণ, সেগুলো রক্ষা,উপযুক্ত এবং সাস্থ্যকর আমিষ সল্পমূল্যে যোগান,নতুন আমিষ খুঁজে বের করাসহ ইত্যাদি কাজে লম্বা সময় ধরেই কাজ করছেন ভেটেরিনারিয়ারা। এছাড়া করোনা মহামারীর মধ্যে বেশ দায়িত্বশীল ভূমিকা শুরু থেকেই রেখে আসছেন ভেটেরিনারিয়ারা। করোনা মহামারীর তান্ডব শুরু হলে করোনা শনাক্তকরণ থেকে শুরু করে আক্রান্ত হওয়া রক্ষাত্রে ভাক্সিন তৈরিসহ আক্রান্তদের সুস্থ করতে প্র‍য়োজনীয় আমিষ উৎপাদনে ভেটেরিনারিয়ারদের ভূমিকা প্রসংশার দাবিদার।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস।দিবসটি উপলক্ষ্যে ভেটেরিনারি স্টুডেন্টস এসোশিয়েশন(ভিএসএ) অনলাইন প্ল্যাটফর্ম জুমে এক আলোচনা সবার আয়োজন করে।অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি প্রফেসর ডা.আহসানুর রেজা এবং সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস পিয়ালের সঞ্চালনার দায়িত্বে,ভেটেরিনারি ডিপার্টমেন্টের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল অনুষ্ঠানে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এবং উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পবিপ্রবির অন্তবর্তীকালিন ভিসি(রুটিন দায়িত্ব) প্রফসের ড.স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত। তিনি বলেন, দুর্যোগময় এই অবস্থার মধ্যেও ভেটেরিনারিনারিয়ানরা প্রাণি স্বাস্থ্যসেবা এবং তাদের সুরক্ষায় নিজেদের জীবন বাজি রেখে যে অবদান রেখে যাচ্ছে তা অনবদ্য। করোনা গবেষনায় ভেটেরিনারিনারিয়ানদের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।মানবজাতির অগ্রগতিতে ভেটেরিনারিনারিয়ানরা আরো অবদান রাখার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। কি নোট স্পিকার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ডা.কে এইচ এম নাজমুল হোসেন নাজির।তিনি করোনায় ভেটেরিনারিনারিয়ানদের ভূমিকা, গবেষনা এবং সামগ্রীক বিষয় নিয়ে গবেষনা পত্র উপস্থাপন করেন।

অনুষদীয় ডিন প্রফেসর রেজা, প্রফসের ডা.এ কে এম মোস্তফা , প্রফেসর ডা.ফারজানা ,প্রফেসর ডা.জাহাঙ্গীর এবং অনুষদের প্রাক্তন ডিন প্রফেসর ডা.রুহুল আমিন বক্তব্য রাখেন। বক্তারা কোভিড-১৯ শনাক্ত, ভ্যাক্সিন গবেষণায় ভেটেরিনারিয়ানদের রোল মডেল হিসেবে আখ্যায়িত করেন।করোনা কিট শনাক্তকরনে ডা.বিজন কুমার শীলের উদ্ভাবিত টেস্ট এবং ভ্যাক্সিনের কার্যকারিতা গবেষণায় চট্রগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সাইন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকবৃন্দের ভূমিকার প্রশংসা করেন।

এছাড়াও সংগঠনটির সহ-সভাপতি সুরঞ্জন ঢালি বলেন, করোনার মধ্যেও ভেটেরিনারিয়াগণ প্রানি সম্পদ সেক্টরে যে কাজ করে যাচ্ছেন জরুরি সেবা ঘোষণা এখন সময়ের দাবি,এছাড়াও ইন্টার্ন স্টুডেন্টদের ইন্টার্নভাতা ১৮ হাজার করার বিষয়ে দাবি রাখেন, বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন পাবলিক হেলথ সুরক্ষায় সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে সবাই এগিয়ে আসবে। যথাযোগ্য মর্যাদা ও সন্মান নিয়ে কাজ করে যাবেন মানবসেবায় উবুদ্ধ ভেটেরিনারিয়ারগণ এটাই প্রত্যাশা।

এই বিভাগের আরো খবর

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.