করোনার থাবা, তবু থেমে থাকা নয়

মোঃ সোহেল রানা, পবিপ্রবি প্রতিনিধি

0 49

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সবসময় সরগরম থাকে নানা উৎসব আয়োজনে, এসকল উৎসব আয়োজনের বেশিরভাগই হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের নানান সংগঠন-এর হাত ধরে। পড়াশোনার ফাকে সংগঠনগুলো যেমন শিক্ষার্থীদের এক্টুখানি হাফ ছেড়ে বাঁচার সুযোগ করে দেয় তেমনি শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ, দক্ষতা অর্জন, সামাজিক,সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক চর্চার সুযোগ করে দেয়।

এই সংগঠন নিয়ে মেতে থাকা মানুষগুলোই সাংগঠনগুলোর প্রাণ, আর এ মানুষগুলো কাজ পাগল প্রকৃতির হয়ে থাকেন, বসে থাকায় তাদের মানা, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যেতেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তথা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেলেও থেমে নেই সংগঠনগুলোর কাজের গতি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র রাজনৈতিক চর্চার সফল সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ,পবিপ্রবি শাখার পক্ষ থেকে সাস্থ্যবিধি মেনে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়,একই সাথে মাস্ক বিতরণসহ কোভিড-১৯ সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে ছিলো নানা উদ্যোগ। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ পবিপ্রবি শাখার সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম বলেন,””কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্দশনামতো আমরা সকল অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি সফলভাবে সাস্থ্যবিধি মেনে, তবে করোনা মহামারীর কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ পবিপ্রবি শাখার নেতাকর্মীরা সরাসরি উপস্থিত থাকতে পারেননি, করোনার প্রভাবে উপস্থিতি কম হলেও বরিশাল,পটুয়াখালীসহ স্থানীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে জাতীয়সহ একটি আয়োজনও ছাড়া পরেনি।

এছাড়া কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ থেকে নির্দেশ দেয়া আছে দেশের প্রান্তের সকল নেতাকর্মীরা যেন নিজ নিজ স্থানে সেচ্ছায় সামাজিক কাজে অংশ নেয় যার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ পবিপ্রবি শাখার নেতাকর্মীরা মংমনসিংহ, যশোর, পটুয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাস্ক বিতরণসহ একাধিক কর্মসূচী পালন করছে।””

বাঁধন,পবিপ্রবি ইউনিট তাদের কাজ করেই চলছে, এই মহামারীর মধ্যেও একের রক্ত দিয়ে অন্যের জীবন বাঁচানোর কাজ করছে সবসময়ের মতো, অনলাইনে রক্ত দাতাদের খুঁজে বের করে তাদের সাথে রক্ত গ্রহিতাদের যোগাযোগ করিয়ে দেয়া হচ্ছে, রক্ত দানের উপকারীতা সম্পর্কে প্রচার চলছে অনলাইনে।বাঁধন,পবিপ্রবি ইউনিটের সভাপতি সাদমান সারার বলেন, “”বিগত বছরে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে করোনার প্রকোপ শুরুর পর সবকিছু থমকে গেলেও বাঁধন পবিপ্রবি ইউনিটের কাজ থেমে থাকে নি। সকল কর্মীরা নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার চেষ্টা করে। ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছিল। এর মধ্যেই বছরের শেষ সময় চলে আসে। বছরের শেষ দিকেই দায়িত্বপ্রাপ্ত হই।

বাঁধন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এখানে আপনাকে নিজ ইচ্ছা থেকে কাজ করতে হবে, আপনাকে দিয়ে কেউ করাতে পারবে কিন্তু সেটা সমসাময়িক। সামনাসামনি কোনো কাজ করলে যতটা ফলপ্রসূ হয়, দূর থেকে সেটা সম্ভব হয় না। এবছর শুরুর দিকে করোনার প্রকোপ কিছুটা কম থাকার কারণে যতটুকু সময় পেয়েছি সেটাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি। জাতীয় দিবসগুলায় ক্যাম্পাস প্রাঙ্গনে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় কর্মসূচি, বাঁধন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী তে স্বল্প পরিসরে উদযাপন ও অনলাইন মিটিংয়ের মাধ্যমে কাজ সচল রাখার প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে। বাঁধন কর্মীরা যে যেখানে অবস্থান করছেন সেখান থেকেই রক্তদান ও ডোনার সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

ক্যাম্পাসে থাকলে কাজের গতি আরো বৃদ্ধি পেতো, উদ্যোমের সাথে কাজ করার উৎসাহ পেতো। আমাদের প্রতি বছরের ন্যায় এবারও কিছু বার্ষিক কর্ম পরিকল্পনা ছিলো। কিন্তু আমাদের হাতে তো কিছু নাই, সৃষ্টিকর্তা যখন আমাদের উপর থেকে এই মহামারি সরিয়ে নেবেন অতঃপর আমরা ফিরতে পারবো ক্যাম্পাসে।

সর্বোপরি বলতে পারি, করোনা মহামারির কারণে বিভিন্ন বাধা উপেক্ষা করেও আমাদের কাজ এগিয়ে চলছে।””

পবিপ্রবি বন্ধুসভা শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করে চলেছে অনলাইনে, নিয়মিত পাঠচক্র আয়োজনের পাশাপাশি অনলাইন অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকছে তাদের, ২১শে ফেব্রুয়ারিতে অতঃপর মাতৃভাষা শীর্ষক মাগ্যাজিনও প্রকাশ করেছে পবিপ্রবি বন্ধুসভা। পবিপ্রবি বন্ধুসভার সভাপতি সোহেল আমিন সাকিব জানান, “”আমাদের পবিপ্রবি বন্ধুসভার কমিটি হয় জানুয়ারীর ১ তারিখ।

আমাদের বাৎসরিক কিছু কর্মপরিকল্পনা আছে করোনার কারণে যার বেশির ভাগই ব্যহত হচ্ছে।কিন্তু আমরা করোনার জন্য থেমে নই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মত আমাদের কার্যকম অনলাইনে সম্পন্ন হচ্ছে।অনলাইনে আমরা বেশ কিছু প্রোগ্রাম করেছি যার মধ্যে কবিতা লিখন প্রতিযোগিতা, অনলাইন ম্যাগাজিন ও লেখালেখি বিষয়ক কর্মশালা অন্যতম। আমরা অনলাইনে আরও কিছু প্রোগ্রাম করার আশাবাদ রাখছি।আর ক্যাম্পাস খোলার পর বাৎসরিক কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী আমারা আমাদের কাজ চালিয়ে যাব।””

প্রাক্তনদের এবং শিক্ষকদের অনেক সংগঠনগুলোকে দেখা গেছে অর্থনৈতিকভাবে দুস্ত শিক্ষার্থীদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে। বেশ কিছু সংগঠন হান্ড সানেটাজার,মাস্ক বিতরণ কর্মসূচীর আয়োজন করে। অনেক সংগঠন আবার এগিয়ে আসে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের এলাকার দুস্ত মানুষ গুলোর সাহায্যে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সক্রিয় সংগঠন আই.এ.এ.এস পবিপ্রবির উদ্যোগেও নানা অনলাইন কর্মশালা এবং অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছে।আলোকতরী সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা উৎসবে অনলাইনে আয়োজন করেছে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের খবরাখবর সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে নিরঅলসভাবে কাজ করে যাওয়া পবিপ্রবি রিপোর্টার্স ইউনিটি,নতুন ইনটার্ন সদস্য যুক্ত করে তাদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে এবং একইসাথে নানান সুযোগ সুবিধা দিয়ে কাজের সুযোগ করে দিয়েছে ,পাশাপাশি নতুন করে একাধিক সু্যোগ্য উপদেষ্টা যুক্ত হয়ে সংগঠনে যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা, এছাড়াও নিয়মিত বিভিন্ন কর্মশালা আয়োজনের পাশাপাশি পবিপ্রবির সাফল্য গাঁথা শীর্ষক অনলাইন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে চলেছে।

পবিপ্রবি রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামরুজ্জামান আকিমুল বলেন, “করোনা মহামারীর মধ্যেও আমরা অনলাইনে নিয়মিত কর্মশালা আয়োজন করছি, পাশাপাশি অনলাইনে পবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের সফলতা তুলে ধরতে পবিপ্রবি সাফল্য গাঁথার আয়োজনও থাকছে নিয়মিত। তবে করোনা মহামারীর এই পরিস্থিতি না থাকলে কর্মশালা গুলো সরাসরি করা যেত, এতে করে আরও বেশি ভালোভাবে শিখানোর ব্যাবস্থা হত, পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় সংগ্রহেও বিরুপ প্রভাব পরেছে, অনেক সংবাদ সংগ্রহে যেমন সরাসরি থাকা হচ্ছেনা, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচারের হার তুলনামূলকভাবে কম।তবে আমাদের কর্ম পরিকল্পনা আছে, বিশ্ববিদ্যালয় খুললে আমরা সেই মতো কাজে লেগে পরব এবং বিশ্ববিদ্যালয় খোলা অব্দি অনলাইনে কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”এছাড়াও নানা সংগঠন নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে অনলাইনেই।

করোনা ভাইরাস বদলে দিয়েছে স্বাভাবিক চিত্র, লম্বা ছুটিতে আছেন সবাই, জীবন যেমন থেমে থাকেনা তেমনি থেমে নেই সংগঠন এর কাজও, শুধু পরিবর্তন এসেছে কাজ করার পদ্ধতিতে।

এই বিভাগের আরো খবর

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.