ধর্মের দোহাই দিয়ে যারা নাশকতা করছেন তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না : হানিফ

মনির মোল্যা সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

0 61

আওয়ামী লীগের যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক সাংসদ মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, আজকে ধর্মের দোহাই দিয়ে যারা নাশকতা করছেন তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না, তাদেরকে কঠোরভাবে দমন করে বিচার করা হবে।

লকডাউনকে কেন্দ্র করে সোমবার রাতে সালথা উপজেলায় যারা রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস ও জ্বালাও-পুড়াও করেছেন তাদের প্রত্যেককে খুজে খুজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে। একজনও রেহাই পাবেন না। আমরা আজকে প্রশাসনকে কঠোরভাবে নির্দশনা দিয়েছি। যারা এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত এবং যারা ইন্ধন দিয়ে পিছনে থেকে কলকাঠি নেড়েছেন, তারা যে দলেরই নেতা হোক বা যত বড় হুজুরই হোক কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তারা আইনের সৃষ্টিতে সন্ত্রাসী, নাশকতা সৃষ্টিকারী, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দিয়ে বুঝিয়ে দেওয়া হবে রাষ্ট্রের শক্তির কাছে কোনো শক্তি ঘাটে না।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২ টায় কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে নিয়ে তা-বে ক্ষতিগ্রস্ত সালথা উপজেলা পরিষদ পরিদর্শনে এসে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি তার বক্তব্যে এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগের এই মুখপাত্র আরো বলেন, ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হওয়ার পরে ওই কুখ্যাত রাজাকারদের বাঁচানোর জন্য বিএনপি ও জামায়াত সারাদেশে তা-ব চালিয়েছিল, ভেবেছিল সন্ত্রাসী কর্মকা- করে বিচার বন্ধ করা যাবে। কিন্তু তারা বিচার বন্ধ করতে পারে নাই।

সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান এমপি, আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম এমপি, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন প্রমুখ। সমাবেশ শেষে কেন্দ্রীয় নেতারা উপজেলা পরিষদের ধ্বংসস্তূপ পরিদর্শন করেন।

সমাবেশে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাংসদ লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান বলেন, লকডাউনের অজুহাতকে কেন্দ্র করে উগ্র সম্প্রদায়িক গোষ্টি সালথায় যে ধরণের কাজ করেছে, এটা সম্পূর্ণভাবে ইসলাম ধর্মের আইন-কারণ বিরোধী। ইসলাম হচ্ছে শান্তির ধর্ম। ইসলাম ধর্মে মানুষ হত্যা, কারো বাড়িতে আগুন দেয়া ও সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সুতরাং এগুলো যারা করেছেন তারা দেশের আইন যেমন অমান্য করেছেন, ইসলামের আইনও তারা অমান্য করেছেন। তাদেরকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, আজকে যারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে চায়, নিজেদের ফায়দা লুটতে চায়, ভাগ্য উন্নয়ন করতে চায় নিজেদের। তারা দেশের স্বাধিনতা বিকিয়ে ধর্মীয় উম্মাদনার উস্কানি দিয়ে এই ধরণের কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, সালথা-নগরকান্দার মানুষ তাদেরকে প্রতিহত করবে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, যারা এই সালথায় অমানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। যারা অপপ্রচার ও মিথ্যাচার করে মানুষকে ক্ষেপিয়ে তুলেছে তারা কারা, তারা হলো দেশ বিরোধী, তারা এদেশের স্বাধিনতাকে বিশ্বাস করে না, তারা দেশের উন্নয়নে বিশ্বাসী না, তারা দুষ্টচক্র। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের প্রতিহত করতে হবে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম এমপি বলেন, যারা সালথায় এই বীভৎস ঘটনা ঘটাচ্ছে। তারা কখনো আমাদের স্বাধিনতার পক্ষে ছিল না। আজকে যারা হেফাজতের নেতৃত্ব দিচ্ছে, তাদের বাপ-চাচা ১৯৭১ সালে হয় রাজাকার না হয় আলবদর-আলশাম্স ছিল। হেফাজত নেতা মামুনুল হকের বাবা মাওলানা আজিজুল হক ছিল রাজাকার।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এমপির ছোট ছেলে ও তার রাজনৈতিক প্রতিনিধি শাহদাব আকবর লাবু চৌধুরী, ফরিদপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শামচুল হক (ভোলা মাষ্টার), জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল সাহা, সাধারন সম্পাদ সৈয়দ মাসুদ, পৌর মেয়র অমিতাব বোস, সালথা উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ ওয়াদুদ মাতুব্বর, আওয়ামী লীগের অর্থ-পরিকল্পনা উপ কমিটির সদস্য মো. শফি উদ্দিন প্রমূখ।

গত সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ফুকরা বাজারে লকডাউনের কার্যকারিতা পরিদর্শনে যান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারুফা সুলতানা খান হিরামণি।

এ সময় তার গাড়ি থেকে নেমে বাজারে উপস্থিত কয়েকজনকে লাঠিপেটা করে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়রা পুলিশের গুলিতে কয়েক জনের মৃত্যু ও স্থানীয় হেফাজত নেতা মাওলানা আকরামকে গ্রেফতার করা হয়েছে, এমন গুজব ছড়িয়ে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ উপজেলা চত্বরে দেশীয় অস্ত্র ঢাল-কাতরা ও লাঠিসোটা নিয়ে প্রবেশ করে বিভিন্ন সরকারি দফতর ও থানায় এই তা-ব চালায়।

এ সময় ইউএনও-এসিল্যান্ডের দুটি সরকারি গাড়ি সম্পর্ণ পুড়িয়ে দেয়া হয়। তা-বের ঘটনায় জুবায়ের হোসেন (২০) ও মিরান মোল্যা (৩৫) নামে দুই যুবক নিহত হয়।

এই বিভাগের আরো খবর

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.