রাজশাহী পিএন এর ছাত্রী মাইশাহ্ এর আঁকা প্রতিটি ছবি যেন জীবন্ত

জালাল উদ্দিন, সাঁথিয়া (পাবনা) প্রতিনিধি

0 19

ছোট বেলায় মায়ের কোলে মাথা রেখে রাজকুমার-রাজকুমারী, দ্বৈত্য-দানব, বর্গী-মোগলদের গল্প শোনার পাশাপাশি পরম মমতায় মায়ের কাছে আবদার করে বলতো মাগো, আবার বঙ্গবন্ধুর কথা বলো? বীর বাঙ্গালীদের কথা বলো? ৫২ ভাষা আন্দোলনের কথা বলো? ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের কথা বলো? মায়ের স্নেহের আলতো আলতো হাতের স্পর্শে গল্প শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়তেন। বলছিলাম, রাজশাহী সরকারি পিএন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী মাহ্দিয়্যাত মাইশাহ্ এর কথা। মাইশাহ্ বাংলাদেশ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রাজশাহী অঞ্চল রাজশাহীর উপ পরিচালক ড. শারমিন ফেরদৌস চৌধুরী ও রাজশাহী জজ কোটের সিনিয়র আইনজীবি এবং রাজশাহী আইন কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুস সালাম এর একমাত্র মেয়ে।

ছোট বেলা হতেই মাইশাহ্ এর ছবি আকার আগ্রহ ছিল প্রবল। ২য় শ্রেণিতে পড়ার সময় বাংলাদেশ শিশু একাডেমী রাজশাহী কর্তৃক প্রতিযোগিতায় শহীদ মিনারের ছবি এঁকে ১ম স্থান অধিকার করায় ছবি আকার প্রতি মাইশাহ্ এর আরো বেশী আগ্রহ বেড়ে যায়। নিজেই রং-পেন্সিল দিয়ে অবলিনাক্রমে ছবি আঁকে। যদিও কারো কাছে হাতে কলমে ছবি আঁকানো শেখা হয়নি, তবুও নিজের চেষ্টার কোন কমতি রাখেনি। মাইশাহ্ এর আঁকা ছবিগুলো দেখে সকলেই মুগ্ধ ও হতচকিত হয়। তার আকা সব ছবিগুলোই যেন জীবন্ত।

মাইশাহ্ এর আঁকা গ্রাম-বাংলার ছবিগুলোর চেয়ে বেশী স্থান পেয়েছে বঙ্গবন্ধু, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযোদ্ধাকালীন দৃশ্যপটগুলো। কেন এসব বিষয়ের ছবিগুলো বেশী এঁকেছো জানতে চাইলে মাইশাহ্ বলেন, বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণের পর দেশপ্রেমে উদ্বৃদ্ধ হয়ে লক্ষ লক্ষ নিরস্ত্র বীর বাঙ্গালী যার যা কিছু আছে তা নিয়েই মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। এর পূর্বেও ৫২ ভাষাআন্দোলনে মাতৃ ভাষার জন্য বিশ্বের প্রথম আত্মদানকারী বাঙ্গালীজাতি। সর্বপরী ৭১ মহান মুক্তিযোদ্ধা। সব মিলে মনে হয়েছে নতুন প্রজন্মকে এসব বিষয়গুলো জানানো দরকার। মা, মাটি ও দেশকে অবহেলা করে কেউ কোনদিন বড় হতে পারিনি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়তে এ ছবিগুলো ভুমিকা রাখার দায়িত্ববোধ থেকে ছবিগুলো এঁকেছি।

এখানে স্থান পেয়েছে ৫২ ভাষা আন্দোলনে শহীদদের কিভাবে ছাত্র ছাত্রীরা শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে, বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণ ও পরে কিভাবে বীর বাঙ্গালীরা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে পাকসেনাদের প্রতিহত ও খতম করছে, কিভাবে যুদ্ধযান হতে পাকসেনারা নামছে, কিভাবে ব্রীজগুলো ভাংছে, কিভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের নির্যাতন ও হত্যা করা হচ্ছে, কিভাবে মুক্তিযুদ্ধারা পাকসেনাদের পরাস্থ করে ধরে বেঁধে নির্যাতন ও হত্যা করছে।

সর্বপরি স্থান পেয়েছে মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন সংক্রান্ত ছবিগুলো। মাইশাহ্ বড় হয়ে একজন সত্যিকার আর্টিস্ট হতে চান। এই জন্য সকলের দোয়া প্রার্থী।

এই বিভাগের আরো খবর

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.