শীতের সকালে আমি

খন্দকার মিঠু

0 140

শীতের সকাল নিয়ে অনেক অনেক কথা জমে আছে স্মৃতিতে। কর্মক্ষেত্র শহরে, তাই গ্রাম্য জীবনের শীতের সকালটা প্রায় ভুলেই যেতে বসছি। মজার মজার সব কথা নিয়ে অনেকের সাথে গল্পও জমে সেটা মন্দ না। কিন্তু কি করবো। ব্যস্ততা আমাকে দেয় না অবসর, তাই বলে ভেবোনা আমায় স্বার্থপর।

অনেক দিন পরে ঘুম থেকে খুব সকালে উঠেছি তাই যান্ত্রিক শহরের নিরব সড়কের আড়মোড়া ভাঙাতে রাস্তায় নেমে পড়লাম।

পথে দেখা হলো দুজন পথশিশুর। ওরাও আমারই মতো রাস্তায় আছে তবে পার্থক্য শুধু এটুকু যে আমি অনেক ভারি শীতের পোশাক পড়েছি আর ওরা শুধু পাতলা টি শার্ট পড়ে আছে। তেমন কোন কথা না হলেও ওদের নাম জানতে পারলাম। একজনের নাম রতন আর অন্য জনের নাম ডালিম।

ওদের দুজনের মা বাবা ভাই বোন কেউ নেই বলে যে মনটা খারাপ থাকবে তেমন কোন ভাব লক্ষ করলাম না। এটা নিশ্চিত যে ওরা খুবই কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। তারপরেও ওদের মনের জোড় কোথায় এই প্রশ্নটি আমাকে বিব্রত করে তুললো।

খানিক বাদে ওদের একজনকে প্রশ্ন করলাম, রাতে কোথায় থাকো?

জবাবে যে উত্তরটা পেলাম তাতে একটা উপন্যাস লিখলেও শেষ হবার নয়।

যার কেউ নাই তার আল্লাহ আছে স্যার, আপনাগো মতো কতো স্যার আমাগো কথা হুনবো কিন্তু থাকনের জায়গা আর খাওনের যোগার কইরা দিবো না।

ছেলেদুটোর চেহারায় কোন ভয়ের ছাপ নেই, ক্লান্তি নেই, ক্ষুধা নেই। আছে শুধু এই শহরের কর্তাবাবুদের উপর চাপা ক্ষোভ।

বাংলাদেশে পথশিশুদের বড় অংশই রয়েছে রাজধানী ঢাকায়৷ ফেলে দেয়া খাবারেই তাদের ক্ষুধা মেটে৷ আর ফেলে দেয়া জিনিসপত্র সংগ্রহ ও বিক্রি করাই তাদের প্রধান পেশা৷ তারা থাকে ফুটপাথ, পার্ক অথবা কোনো খোলা জায়গায়৷

পথশিশু শব্দটি দিয়ে সেই সকল শিশুশ্রেনী প্রকাশ করে, যাদের কাছে রাস্তাই তাদের স্বাভাবিক বাসস্থান। জীবিকা নির্বাহের একমাত্র উৎস তাদের রাস্তা।

এই বিভাগের আরো খবর

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.