২০ টাকায় রাজধানীতে নৌকা ভ্রমণ

ডেস্ক রিপোর্ট

0 29

মাত্র ২০ টাকায় রাজধানীতে জমে উঠেছে নৌকা ভ্রমণ। অবিশ্বাস্য হলে সত্যি। ইট-পাথরের এই মহানগরের উপকণ্ঠের বালু নদে সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি চলছে নৌ-ভ্রমণ। ঘরের কাছেই এত সুন্দর একটি স্থান রয়েছে জানা নেই অনেকেরই!

বালু নদে থাকা বাহারি আকৃতির বিভিন্ন নৌকায় যুবক-যুবতী, তরুণ-তরুণী, প্রেমিক-প্রেমিকার কদর বেশি। ভ্রমণে আগতরা বলছেন, মাথার ওপরে বিস্তৃত সুনীল আকাশ। বিক্ষিপ্ত মেঘ, নদীপাড়ের বিশাল কাশবন-এমন অপার প্রকৃতির নিসর্গ দেখা যায় এ নদে।

শহরায়ণের প্রভাবে সরু হয়ে এলেও চলমান বর্ষায়ও স্পষ্ট বোঝা যায় বালু নদের যৌবনের ঝলক। মাত্র ২০ টাকায় বালু নদের এ স্বর্গীয় প্রকৃতি উপভোগ করছেন প্রতিদিন শত শত ভ্রমণপিপাসুরা। করোনাকালের এ সময়েও নৌ-ভ্রমণে থেমে নেই আনন্দযাত্রা। প্রথম দেখায় যে কেউ বিশ্বাস করতে চাইবেন না। নির্বাক হতে পারেন কেউ কেউ। বালু নদে নৌ-ভ্রমণে কী বেকার, কী ব্যস্ততা, সব কিছু ছাপিয়ে চলছে এ বিলাসিতার ভ্রমণ।

রাজধানী ঢাকার ছকবাঁধা জীবন আর গৎবাঁধা নিয়মের ভিড়ে কোথাও ঘুরে আসার মতো সময় ও জায়গা পাওয়া ভার। অল্প সময়ে পূর্ণ ভ্রমণ। বিশেষত নৌ-ভ্রমণে যাদের আগ্রহ তারা চাইলে মাত্র ঘণ্টা দুয়েক সময় হাতে নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন রাজধানীর অন্যতম নৌ-পর্যটন স্পট বালু নদে। এটি রাজধানী ঢাকা ঘিরে থাকা পাঁচটি নদ-নদীর অন্যতম। গাজীপুর, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা ছুঁয়ে বহমান বালু ৪৪ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে পতিত হয়েছে শীতলক্ষ্যায়।

এখানে বিকেলে রাজধানী থেকে ঘুরতে আসেন অসংখ্য মানুষ। বালু নদের বুকে নৌকা চালিয়ে তিন দশক পার করে দিয়েছেন বৃদ্ধ হোসেন আলী মাঝি। আগে মালামাল ও যাত্রী টানার কাজ করলেও এখন মূলত পর্যটক নিয়ে বালুর বুক চষে বেড়ান হোসেন আলী। তিনি জানান, দিনে ১০ থেকে ১২টি ট্রিপ মারেন। ঘাটে তার মতো মাঝির সংখ্যা প্রায় ১০০ এর কাছাকাছি।

কীভাবে যাবেন?

অনিন্দ্যসুন্দর বালুতে নৌ-ভ্রমণের জন্য মাত্র ঘণ্টা দুয়েক সময় হলেই দল বেধে বেরিয়ে পড়তে পারেন। রাজধানীর যে কোনো স্থান থেকে যাওয়া যায়। চাইলে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা সংলগ্ন ৩০০ ফুট সড়ক হয়ে বা খিলক্ষেত থেকেও বালু নদের ঘাটে পৌঁছানো সম্ভব। ৩০০ ফুট সড়কের চেকপোস্ট বা খিলক্ষেত থেকে অটোরিকশা জনপ্রতি ৩০ টাকা হিসেবে সরাসরি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকার ইছাপুরা ঘাটে আসে। বেরাইদ ঘাট থেকে ইছাপুরা বা ইছাপুরা ঘাট থেকে বেরাইদের উদ্দেশে প্রতি ৫ থেকে ১০ মিনিট বিরতিতে ছেড়ে যায় ইঞ্জিনচালিত ট্রলার।

মাঝারি আকৃতির ট্রলারে অনায়াসে জনা চল্লিশেক মানুষের ব্যবস্থা থাকলেও যাত্রী তোলা হয় মাত্র ১০ থেকে ১২ জন। সকাল থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলাচল করে এসব ট্রলার। চাইলে ঘণ্টা হিসেবেও ভাড়া নেয়া যায় ট্রলার। সেক্ষেত্রে ভাড়া ঘণ্টা প্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে। তবে রিজার্ভ করা হলে ভ্রমণের নির্দিষ্ট কোনো রুট নেই। সেই সঙ্গে উভয় ঘাটেই রয়েছে ছোট ডিঙি নৌকা। এগুলোতে দরদাম সাপেক্ষে ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে।

ইছাপুরা-বেরাইদ রুটে ভ্রমণে সময় লাগে ২০ মিনিট মতো। সাধারণত বিকেলের দিকে মানুষের ভিড় বাড়ে। তবে সকালে এলে ভ্রমণের সঙ্গে বেরাইদ ঘাটের বিশাল মাছ বাজারে পাইকারি ও টাটকা মাছের দেখা মিলবে। ওপারে ইছাপুরা ঘাটসংলগ্ন বাজারে রয়েছে স্থানীয়ভাবে তৈরি হরেক মিষ্টির সম্ভার। কম দামে পাওয়া যায় সুস্বাদু মিষ্টি। রয়েছে গ্রামের তরতাজা সবজি ও ফলের পসরা। একটু দূরে ৩০০ ফুট ঘেঁষে গড়ে ওঠা ভোলানাথ বাজারে রয়েছে চটপটি-ফুচকা বা ফাস্টফুডের দোকানসহ হোটেল এবং ফলের বাজার।

এই বিভাগের আরো খবর
Loading...