সাঁতারের দুনিয়ার ১০ সুন্দরী

ডেস্ক রিপোর্ট

0 20

মানুষের আসল সৌন্দর্য হলো কাজে। সুন্দর কিংবা সুন্দরী কেউ কাজের মানুষ না হলে তার শারিরীক সৌন্দর্য মূল্যহীন হয়ে পড়ে। ঘরে-ঘরে আজ প্রায় সাঁতার শিখছে ছেলে-মেয়েরা। কিন্তু কাউকে যদি সত্যিই বলা হয়, সাঁতার নিয়েই জীবনে এগিয়ে যেতে চাও? তাহলে উত্তর আসবে- কখনই না। তবে অনেকই রয়েছেন যারা জীবনে এগিয়ে যাওয়ার উপায় হিসেবে বেছে নিয়েছেন সাঁতারকে। দীর্ঘ অধ্যবসায়ের পর পেয়েছেন আকাশছোঁয়া সাফল্য। আবার অনেক নারী সাঁতারু স্রেফ সৌন্দর্য্যে বিপুল ভক্তকূলের মনের গহীন কোণে পাকা জায়গা করে নিয়েছেন।

​জুজ্নানা জাকাবোস : হাঙ্গেরিয়ান এই নারী সাঁতারু সার্কিটে জু নামেই অধিক পরিচিত। খুবই কম বয়সে আন্তর্জাতিক সাঁতার ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন জুজ্নানা জাকাবোস। একবার তিনি হাঙ্গেরির স্যুইমার অফ দ্য ইয়ারও হয়েছিলেন। ২০০৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত অলিম্পিক্সে অংশ নিতে দেখা গিয়েছিল তাকে। ফ্রি স্টাইল রিলেতে তিনি ষষ্ঠ স্থানও অধিকার করেছিলেন।

​বিয়া ও বিয়াঙ্কা ফেরেস : ব্রাজিলিয়ান এই দুই স্যুইমার আসলে যমজ দুই বোন। একসঙ্গেই মাত্র তিন বছর বয়সে দুই বোন বিয়া ও বিয়াঙ্কা সাঁতার জগতে নাম লেখান। কিন্তু ৭ বছর বয়স হতেই তারা আলাদা হয়ে যান। দুই বোন প্যান আমেরিকান গেমসে বহু পদক জিতেছেন। এই মুহূর্তে তারা জমিয়ে মডেলিংও করছেন।

​আমান্ডা বেয়ার্ড : বিশ্বের অন্যতম সেরা হটেস্ট আমেরিকান অলিম্পিক্সে অংশগ্রহণকারী সাঁতারু হলেন আমান্ডা বেয়ার্ড। ২০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকের রেকর্ড এখনও রয়েছে তার ঝুলিতেই। পুরো ক্যারিয়ারে মোট ৭টি অলিম্পিক পদক জিতেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ২টি সোনার পদক। ক্যালিফর্নিয়ার নিউপোর্ট বিচে জন্মগ্রহণ করা আমান্ডা আরিজোয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় থেকেই সাঁতারে নিজের দাপট দেখাতে শুরু করেছিলেন।

​স্টেফানি রাইস : অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসব্রেনে জন্মগ্রহণ করেন খ্যাতিমান সাঁতারু স্টেফানি রাইস। বেজিংয়ে সামার অলিম্পিক্সে তিন-তিনটি স্বর্ণপদক জিতেছিলেন তিনি। পড়াশোনা করেছেন ক্লেফিল্ড কলেজে। পরবর্তীতে মডেলিং জগতেও হাত পাকা করেছেন রাইস। অস্ট্রেলিয়ার এক সময়ের দাপুটে সাঁতারু এই মুহূর্তে লস অ্যাঞ্জেলসে কোচিং পেশায় যুক্ত আছেন।

​নাটালি কাফলিন : আমেরিকার আর এক দাপুটে সাঁতারু ছিলেন নাটালি কাফলিন। ১২ বার অলিম্পিকসে পদক জিতেছিলেন তিনি। মাত্র এক মিনিটের মাথায় কাফলিন ১০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোক করে দেখিয়েছিলেন। প্রথম নারী সাঁতারু হিসেবে তিনি এই রেকর্ড গড়েন। ৩ বার আমেরিকান স্যুইমার অফ দ্য ইয়ার পুরস্কার জিতেছিলেন। এছাড়া একবার বিশ্বসেরা স্যুইমার খেতাবও জিতেছিলেন কাফলিন।

​চোলে সাটোন : লং ডিসট্যান্স এবং ফ্রিস্টাইল স্যুইমার হিসেবে বহু আগেই নাম করে গিয়েছিলেন চোলে সাটোন। স্কুল জীবন থেকে তিনি সাঁতার শুরু করেন। এরপর নেব্রাস্কা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিপ্লোমা ডিগ্রিও পেয়ে যান। আন্তর্জাতিক স্তরে জিতেছিলেন মোট ৫টি পদক। বরাবর আমেরিকাকেই প্রতিনিধিত্ব করে গিয়েছেন তিনি। কিন্তু কোনোবারই বিশেষ স্থান দখল করতে পারেননি।

​ফ্লাভিয়া ডেলারোলি : ফ্রিস্টাইল স্যুইমিংয়ে বহু বছর ধরে দাপট দেখিয়েছেন ফ্লাভিয়া ডেলারোলি। ১৫ বছর বয়সেই প্রফেশনালি সাঁতার শুরু করেছিলেন। ৪x১০০ মিটারের ফ্রিস্টাইল রিলে-তে ব্রোঞ্জ পদকও জিতেছিলেন ফ্লাভিয়া। ২০০৩ সালে প্যান আমেরিকান গেমসে জিতে নেন ব্রোঞ্জ পদক। পরের বছর অর্থাৎ ২০০৪ সালে এথেন্সে সামার অলিম্পিকসে অষ্টম স্থান অধিকার করেন। ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইলে এক ব্রাজিলিয়ান সাঁতারুর রেকর্ড ভেঙে দেওয়া তার অন্যতম অর্জন।

​আলেকসান্দ্রা গেরাসিমেনিয়া : বেলারাসে জন্মগ্রহণ করেছিলেন সাবেক নারী সাঁতারু আলেকসান্দ্রা গেরাসিমেনিয়া। ইউরোপিয়ান এবং বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে তিনি স্বর্ণপদকও জিতেছিলেন। ২০১২ সালের অলিম্পিক্সে জয় করেছিলেন রূপার পদক। খুব অল্পের জন্যই স্বর্ণপদক সেবার হাতছাড়া হয়েছিল তার। তবে ড্রাগ টেস্টের পরে তার শরীরে মাদকজাত দ্রব্যের উপস্থিতির কারণে দুই বছরের জন্য নির্বাসিত করা হয়েছিল আলেকসান্দ্রাকে।

​জেন্না রান্ডাল : ২টি অলিম্পিকে অংশ নিয়েছিলেন সাবেক সাঁতারু জেন্না রান্ডাল। তিনবার কমনওয়েলথ গেমসে জিতেছিলেন পদক। তার জন্ম ইংল্যান্ডের অ্যাসকটে। রুশমুর সিঙ্ক্রোর মতো নামজাদা সাঁতারুকে হারিয়ে নিজের জাত চিনিয়েছিলেন। তবে শুধু সাঁতারই নয়। বাস্কেটবল, রাগবিও নিয়মিত খেলেছেন জেন্না রান্ডাল। তবে ইদানিং মডেলিংও করতে দেখা যায় তাকে।

​কেরি-আন্নে পাইন : জন্ম দক্ষিণ আফ্রিকায়। কিন্তু বরাবরই ব্রিটিশ স্যুইমার হিসেবেও নিজের পরিচয় দিয়ে এসেছেন। কেরি-আন্নে পাইন মূলতঃ ওপেন ওয়াটার এবং লং ডিসট্যান্সের জন্য প্রসিদ্ধ। দুই বার ১০ কিলোমিটার ওপেন ওয়াটার চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিলেন। অলিম্পিকে জিতেছেন রুপার পদক। মাত্র ৪ বছর বয়সে সাঁতার শেখা শুরু করেন কেরি। ৮ বছর বয়স থেকে ট্রেনিং নিতে শুরু করেন। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে আন্তর্জাতিক স্তরে বহু রেকর্ড তিনি ভেঙে দিয়েছেন।

এই বিভাগের আরো খবর
Loading...