শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় আমি দেখেছি যাকে

আরিফুল ইসলাম সুমন

0 20

বলতে পারা আর না পারার মাঝের সামান্য দুরত্বটাই অজ্ঞতা। যার প্রয়োজন মেটাতে জানার সাগরে একজন মানুষ অন্যজনের স্বরণাপন্ন হয় কিংবা সার্নিদ্ধে আসে। ঠিক তেমনই এক ব্যক্তির কথা লিখতে বসেছি যার কাছ থেকে শিখেছি “ভরসা করার মতো জায়গা কিভাবে তৈরী করতে হয়।”

একজন আলোকিত মানুষ হিসেবে তিনি পরম মমতাময়, স্নেহপরায়ণ। কোনো কিছুতে বিরক্ত হন না, রাগেন না। কোনো কিছু জানতে চাইলে অনায়াসে বলে দেন; শেখান নতুন নতুন অজানা কথা। সবকিছু ইতিবাচক দৃষ্টি কোণ থেকে দেখতে হবে, দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে হবে নিজের কর্মগুণে, সুবিধা বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে ন্যায় নীতির আলোকে, জনদূর্ভোগের পাশাপাশি উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে হবে ফলাও করে, কখনও সমাজের সাদা মনের মানুষকে আঘাত দেয়া যাবেনা, কোনো অবস্থাতেই নিজের মাতৃভূমিকে ছোট করা যাবেনা, সকলের সঙ্গে সম্প্রীতি বজায় রেখে চলতে হবে; এমন অসংখ্য মহা মূল্যবান কথা-পরামর্শ সবসময়ই যে লোকটি দিয়ে থাকেন তিনি হলেন আমার সম্মান ও শ্রদ্ধার মানুষ আল আমীন শাহীন। যতবার এই মানুষটির সংস্পর্শে যাই, ততবার জ্ঞানের নানা শাখায় পদচারণা তাঁর সাধনার বিশেষ দিক বলে মনে হয়েছে…

তিনি সরাসরি সাংবাদিকতার আমার শিক্ষক। বিগত ২০০২ সাল থেকে তাঁর সঙ্গে আমার দেখা। আমি তাঁকে দেখেছি জীবনের বৃহত্তর পরিসরে, যেখানে লেখার হাজার বিষয় থাকে জীবনের পূর্ণতা অর্জনের জন্য। এ পর্যন্ত যতটুকু আমি অর্জন করেছি; এসবের অনেক কিছু আমি তাঁর কাছ থেকে শিখেছিলাম অলক্ষ্যে, অপ্রত্যক্ষ শিক্ষার্থী হিসেবে। তিনি নিজেও হয়ত জানেন না তাঁর কাছ থেকে কতটুকু আমি কীভাবে নিয়েছি।
তিনি একজন পূর্ণ আধুনিক মানুষ। আধুনিকতার প্রতিটি বিষয় তাঁর চরিত্রের ভেতরে গভীরভাবে বিরাজিত। তিনি মুক্তচিন্তার মানুষ, মানবিক, সংস্কৃতির বন্ধুত্বে বিশ্বাসী, অসাম্প্রদায়িক, নিজের ইতিহাস, ঐতিহ্যের প্রতি গভীরভাবে শ্রদ্ধাশীল এবং প্রগতিশীল চিন্তায় স্নাত। এমন আধুনিক মানুষ আমাদের চারপাশে কম আছে। আধুনিকতার পাঠ আমি তাঁর কাছ থেকে পেয়েছি। এর জন্য শ্রেণীকক্ষের দরকার হয়নি। তাঁর লেখা, বলা এবং আচরণ থেকেই চোখ খুলে রাখলে শেখা হয়ে যায়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি আল আমীন শাহীন একজন আলোকিত মানুষ এবং মানুষ গড়ার কারিগর। তাঁর প্রতিটি লেখা আমি মনোযোগ সহকারে পড়তাম এবং এখনো পড়ি। তরুণ বয়সে তাঁর লেখা থেকে পাওয়া বিভিন্ন স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি নিজের ভেতরের বোধকে গড়ে তোলার জন্য অত্যন্ত সহায়ক ছিল। এজন্য তিনি আমার শ্রদ্ধেয়।

আমি অনুভব করেছি তাঁর সামাজিক-সাংস্কৃতিক ভূমিকা অত্যন্ত দৃঢ়প্রত্যয়ী। তিনি কখনও কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কি-না আমি জানি না, কিন্তু ধরে নিই যে তাঁর সিদ্ধান্তে কোনো ভুল ছিল না। জীবনের উল্টো পথে হাঁটার মানুষ তিনি নন। তাঁর স্বচ্ছতা, গ্রহণযোগ্যতা সামাজিক-সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে একজন বড় মাপের মানুষের প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন।

সামাজিক-সাংস্কৃতিক মুল্যবোধকে সমুন্নত রাখার জন্য তাঁর চেষ্টা প্রশ্নহীন। বিভিন্ন সভা, অনুষ্ঠানে তাঁর সরব উপস্থিতি সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকে সুস্থ, কলুষহীন রাখার জন্য সতর্ক উপস্থিতি। তাঁর উপস্থিতিতে পুরো অনুষ্ঠানে মানবিক ভাবনার শুভ ও কল্যাণের দিকটিই উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। সে সব অনুষ্ঠানে স্বস্তি থাকে।

মানবিকবোধে উজ্জীবিত এক নির্ভীক কলমজীবী আল আমীন শাহীন এ সময়ের একজন দৃষ্টান্তকারী মানুষ। বহুমাত্রার জ্ঞানের স্বীকৃতিও আলোকিত এই মানুষটি। শুধু পুঁথিগত বিদ্যা দিয়ে বড় হওয়া যায় না, যদি-না তার সঙ্গে মানুষের মঙ্গলভাবনাকে তোলার নানামুখী চেষ্টায় তিনি ক্রিয়াশীল থাকেন। আমরা এমন একজন মানুষকে কাছে পেয়ে গৌরবান্বিত।

মানুষ হিসেবে তিনি মমতাময়, স্নেহপরায়ণ। বিরক্ত হন না, রাগেন না। কোনো কিছু জানতে চাইলে অনায়াসে বলে দেন। জ্ঞানের নানা শাখায় পদচারণা তাঁর সাধনার বিশেষ দিক বলে মনে হয়েছে। বিস্মৃত-প্রায় মানুষকে নিয়ে অনুষ্ঠান করার ক্ষেত্রে তিনি অগ্রগামীর ভূমিকা পালন করেন। মানুষের কর্মসাধনার মুল্য দেওয়ার জন্য তিনি নবীন প্রজন্মকে এভাবে জানিয়ে দেন।

তাঁকে কাছ থেকে দেখে বুঝেছি তিনি সেই মানুষ যিনি সমাজের প্রতিটা স্তরকে সুখী সমৃদ্ধ দেখতে চান। তিনি সেই মানুষ যাঁর স্বপ্নের ভূমিতে আকাল নামে না।

পরিশেষে এই মানুষটির প্রতি রইলো শুভ কামনা। মহান আল্লাহ সবসময় তাঁকে সুস্থ রাখুক, এই প্রার্থনা করি।

লেখক : আহবায়ক; সরাইল উপজেলা রিপোর্টার্স ইউনিটি।

এই বিভাগের আরো খবর
Loading...