রক্তে অধিক চর্বির ঝুঁকি ও করণীয়

ডেস্ক রিপোর্ট

0 13

রক্তে চর্বির পরিমাণ একটি নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশি হয়ে গেলে তখন তা বিভিন্ন রোগের জন্য ঝুঁকি হয়ে দাঁড়ায়। যেমন—হৃপিণ্ডের রোগ, রক্তবাহী নালির রোগ, স্ট্রোক, অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ, চোখের সমস্যা, চর্মরোগ ইত্যাদি। এ রোগগুলো একসময় এমন পর্যায়ে পৌঁছে, যাতে জীবন সংশয় পর্যন্ত হতে পারে। তাই রক্তে অতিরিক্ত চর্বির মাত্রা বা হাইপার লিপিডেমিয়া প্রতিরোধ জরুরি।

রক্তের চর্বি
রক্তে বিদ্যমান গুরুত্বপূর্ণ চর্বিগুলো হলো—

কোলেস্টেরল : এর মধ্যে রয়েছে লো ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন, ভেরি লো ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন, হাইডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন। এর মধ্যে এইচডিএল শরীরের জন্য ভালো।

ট্রাইগ্লিসারাইড : রক্তে চর্বির পরিমাণ বৃদ্ধির কারণ—

ক. প্রাইমারি কারণ : এটা দেহে চর্বির মেটাবলিজম বা বিপাকের অসুবিধার জন্য হয়। তবে এটা বংশগত বা ফ্যামিলিয়ার কারণ।

খ. সেকেন্ডারি কারণ

১. বিভিন্ন রোগ যেমন—স্থূলতা, ডায়াবেটিস, হাইপোথাইরডিজম (থাইরয়েডের রোগ), নেফ্রোটিক সিনড্রোম (কিডনির রোগ), কিডনি ফেইলিওর, লিভার ও পিত্তজনিত সমস্যা, অত্যধিক অ্যালকোহল সেবন, কিছু ওষুধ—থায়াজাইড ডাইইউরেটিকস, বিটা ব্লকার।

২. অধিক চর্বিযুক্ত খাবার।

লক্ষণ
ওজন বৃদ্ধি, ডায়াবেটিসের উপসর্গ, কিডনি রোগ বা থাইরয়েড রোগের উপসর্গ। তবে এ ছাড়া এমনিতেও কয়েকটি লক্ষণ চোখে পড়ে। যেমন—চোখের চারপাশ দিয়ে সাদা সাদা দাগ পড়া, পায়ের গোড়ালির ওপরের রগের ওপর শক্ত সাদা দাগ পড়া ইত্যাদি।

পরীক্ষা
রক্তে চর্বির পরিমাণ দেখতে লিপিড প্রফাইল, রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ (ডায়াবেটিসের জন্য), মূত্রের পরীক্ষা, রক্তে ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিনের পরিমাণ, থাইরয়েড ফাংশন টেস্ট ইত্যাদি পরীক্ষা করাতে হয়। রোগের লক্ষণ অনুসারে রক্তে অতিরিক্ত চর্বির কারণ খুঁজতে নির্দিষ্ট লাইনে এ পরীক্ষাগুলো করা হয়।

চিকিৎসা
কোনো রোগীর রক্তে চর্বির পরিমাণ বেশি বলে নিরূপিত হলে তার চিকিৎসার ক্রমধারা নিম্নরূপ—

খাবার : কম চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ, অ্যালকোহল পানে বিরত থাকা, প্রচুর মাছ, সবজি ও ফলমূল খাওয়া, ধূমপান পরিহার করা ইত্যাদি খাবার নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে এবং এ প্রক্রিয়া ছয় মাস পর্যন্ত চালানো যেতে পারে। এরপর রক্তে চর্বির পরিমাণ না কমলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুসারে ওষুধ খেতে হবে।

রোগের কারণগত চিকিৎসা : যদি দেখা যায়, রোগীর রক্তে চর্বি বেশির কারণ ওজন বৃদ্ধি বা ডায়াবেটিস বা থাইরয়েড সমস্যা, তাহলে ওই সব কারণগত রোগের সঠিক চিকিৎসা করাতে হবে।

চর্বির মাত্রা কমানোর জন্য ওষুধপত্র : তা অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খেতে হবে। তাই এখনই আমাদের সতর্ক হতে হবে এই হাইপার লিপিডেমিয়া সম্পর্কে। একে প্রতিরোধের মাধ্যমেই আমরা সবচেয়ে বেশি সুফল পেতে পারি। নতুবা এটা নিয়ন্ত্রণে রাখা খুবই কঠিন হবে। আর যার পরিণাম হতে পারে ভয়াবহ। তাই এটাকে রুখতে ওপরের নির্দিষ্ট নিয়ম পালন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিরোধে করণীয়
এ রোগ প্রতিরোধ করতে হলে এর কারণগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। অর্থাৎ যেসব রোগের কারণে এটা হয়, সেসব রোগ প্রতিরোধ করতে হবে। তাই—

দেহের ওজন স্বাভাবিক রাখতে হবে।

খাবারে প্রচুর আঁশজাতীয় অংশ থাকবে

চর্বিজাতীয় খাদ্য পরিহার করতে হবে

অ্যালকোহল পানে বিরত থাকতে হবে

খাবারে প্রচুর পরিমাণ মাছ খেতে হবে

খাবারের তালিকায় প্রচুর শাকসবজি ও ফলমূল থাকবে

নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক
ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল

এই বিভাগের আরো খবর
Loading...