খুলনায় একজন পাটকল শ্রমিক সন্তানের আর্তনাদ

মোঃ ইউসুফ শেখ, খুলনা

0 33

মহামারি করোনা প্রার্দুভাবের মাঝে খেটে খাওয়া মানুষের নুন আনতে ফুরায় আর সেখানেই দেশে রাষ্ট্রয়াত্ব পাটকল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এ যেন মরার উপর খাড়ার ঘা। খুলনাসহ অন্যান্য জেলায় অবস্থিত সকল পাটকল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে । এমনিতেই ধুকে ধুকে চলছে পাটকল গুলো বেতন ভাতা রয়েছে বকেয়া আর এখন সম্পুর্ন বন্ধ। কিভাবে চলবে শ্রমিকের সংসার কে দিবে দুমূঠো খাবার অনিশ্চয়তাই পড়েছে পাটকল শ্রমিকের জীবন যাপন।

সারাবিশ্ব আজ যেখানে বায়ু দূষণ,  মাটি দূষণ, পানি দূষণ এগুলোর জন্য প্লাস্টিক বা পলিথিনের পরিবর্তে পাট বস্ত্র বা পাট শিল্পকে বেছে নিচ্ছে। সেখানে আমাদের দেশের সম্ভাবনাময় খাতটির গলা টিপে কেন হত্যা করা হচ্ছে? আর্তনাদে ফেটে পড়েছেন একজন পাটকল শ্রমিক সন্তান সৈকত ইসলাম।

যে কারণ সমূহে আজ পাটকল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে– লাভ হয় না, প্রোডাকশন ভালো না এগুলোই তো, কিন্তু এর পিছনের কারণ কি? সেটাতো সকলে জানেনা। কিছু ব্যাক্তি-মহল (শকুনের) চোখ পড়েছে, সোনালী আশ খ্যাত এই খাতে। দুর্নীতিগ্রস্থ খাদক মহলের হস্তক্ষেপ। দীর্ঘ ৫৬ বছরে আধুনিক করণ হয় নাই মেশিন তথা প্রতিষ্ঠান। সময় মতো পাট ক্রয় না করে অসময়ে দ্বিগুণ অর্থে পাট (কাঁচামাল) ক্রয় করা। দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া। অসৎ মানুষের কাছে দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে ফল ভোগ করার ইচ্ছা। আন্তর্জাতিক বাজার ধরতে না পারা।

যেখানে বেসরকারি পাটকল লাভ করছে, সেখানে রাষ্ট্রীয় পাট কল গুলো শুধু লোকসান দেখায়। তাই জোরালো ভাবে খতিয়ে দেখা উচিত সমস্যা কোথায় এবং শিকড়সহ উপড়ে ফেলে। সময়োপযোগী পদক্ষেপ না নেওয়া।

আমার মতে চলমান পরিস্থিতি ও যা করণীয়। মেশিন বা শিল্পকে আধুনিকয়ন করা। বিজেএমসি (মাসি) কে ছড়িয়ে মাকে (মিল) কে দায়িত্ব দেওয়া। এক্ষেত্রে বড় পদ সমূহে সেনাবাহিনীর অফিসার দের নিয়োগ দেওয়া। যথাসময়ে পাট ক্রয় এবং কোয়ালিটি ১০০% হতে হবে। সকল প্রকার সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে। বয়স্ক, অকর্ম ৫০% শ্রমিককে বকেয়া মিটিয়ে গোল্ডেন হ্যানস দেওয়া। কোন প্রকার ঘুষ বাণিজ্য ছাড়া বদলী শ্রমিকদের স্থায়ী করণ। তবে প্রথম পর্যায়ে ৭০-৮০% শ্রমিককে বদলি নিয়মে চাকুরী দেওয়া। শ্রমিক নেতাদের আধিক্য দল কেন্দ্রীক করা যাবে না। তাদের নিদিষ্ট এবং হাতে গোনা কিছু ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করতে পারবে এর বাইরে কিছু করতে পারবে না। প্রডাকশন টার্গেট সেট করে দেওয়া। বেতনের ৭৫% প্রডাকশন বেজ করে দেওয়া। প্রডাকশন ম্যানেজার বা বড়কর্তাদের নজর দারিতে রাখা এবং বার্ষিক লভ্যাংশের (কিছু)% দেওয়া। আন্তর্জাতিক বাজারে আধিপত্য লাভের জন্য জোড় চেষ্টা চালানো।

অনতিবিলম্বে কোন আমলা নয়, মাননীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী,  বানিজ্যমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, শ্রমকর্মসংস্থানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পাটমন্ত্রী এবং কৃষিমন্ত্রীকে দিয়ে একটি কমিটি গঠন করে। গবেষকদল এর সাথে বসে আগামী ৫বছরের জন্য একটি প্রকল্প আকারে হাতে নিয়ে, সোনালী আশের সঠিক ব্যবহারের মার্ধ্যমে পাটশিল্প গুলোকে ঘুরে দাড় করাতে হবে। শ্রমিক বাচঁলে বাচঁবে দেশ সোনালী আশের বাংলাদেশ।

এই বিভাগের আরো খবর
Loading...