আমার দেখা নয়াচীন বঙ্গবন্ধুর তুলিতে বঙ্গবন্ধু

রেজানুল হাসান রয়েল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

0 62

বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কে বহু বই লেখা হয়েছে কিন্তু বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের বাইরে ব্যক্তিগত জীবনে তিনি কেমন মানুষ ছিলেন, কেমন ছিল তার ব্যক্তিসত্বা তা আমরা তার “আমার দেখা নয়াচীনে” বেশ ভালোভাবেই উপলব্ধি করতে পারি। তার দেখার চোখ এতো সুন্দর যে আপনি আপ্লুত হবেন প্রবল আবেগে,আফসোস করবেন এমন একজন মানুষকে তার প্রাণের দেশকে অমূল্য সেবা করা থেকে নির্মমভাবে বঞ্চিত করার জন্য।

উল্লেখ্য, ১৯৫২ সালে অনুষ্ঠিত চীনের পিকিংয়ে শান্তি সম্মেলনে যোগ দেয় ৩৭টি দেশ থেকে ৩৬৭ জন ডেলিগেট, ৩৭ জন পর্যবেক্ষক ও ২৫ জন আন্তর্জাতিক সংগঠনের প্রতিনিধি। বইটিতে প্রথমেই আমরা দেখতে পাই যুদ্ধ এবং যুদ্ধের ভয়াবহতা উপলব্ধি করে তার উক্তি,”পাকিস্তানের স্বার্থের জন্য-যুদ্ধ চাই না,শান্তি চাই। “চীন ভ্রমনের প্রথমদিকে তিনি অবাক হয়ে দেখেন ও আমাদের দেখান একটি দেশের লোকজন যদি রাষ্ট্র মেরামতে এগিয়ে আসে তাহলে সেই রাষ্ট্রের উন্নয়ন অনিবার্য। বঙ্গবন্ধুর নিজ ভাষা প্রীতি আপনাকে বিমোহিত করবেই। নয়াচীনের পিতা সান ইয়াৎ-সেনের দ্বিতীয় স্ত্রী যখন যথেষ্ট ইংরেজি জানা সত্ত্বেও চীনা ভাষায় বক্তৃতা দেন তিনি আমাদের জাতীয়তাবোধ, দেশের প্রতি দরদ যে এটাই তা ভালো করে বুঝিয়ে দেন। বুঝিয়ে দেন আমরা জাতি হিসেবে পিছিয়ে পড়ার কারণ পরের ভাষা, পরের সংস্কৃতি আমাদের অন্ধকূপে আটকে রেখেছে। তিনি মুগ্ধ হন যখন দেখেন চীন দেশের প্রিভিলেজপ্রাপ্ত ক্লাস হচ্ছে শিশুরা।

আবার এক শ্রমিকের বাড়ি ঘুরতে গিয়ে যখন দেখেন তারা নব-বিবাহিত, তখন হাতের আংটি খুলে শ্রমিকের স্ত্রীকে উপহার দিয়ে আসেন। সেখানে অন্তরে নরম বাঙ্গালী সমাজের তিনিই প্রতিনিধি। বইয়ের পরতে পরতে তার জহুরীর চোখ আপনাকে বিস্মিত করবে। তিনি খোঁজ নিয়েছেন শ্রমিকদের, ভিক্ষুকরা কেমন আছে, কথা বলেছেন নাপিতের সাথে, এমনকি একটা কমিউনিস্ট সরকার মুসলিমদের অধিকার দিচ্ছে কিনা সেটাও তার সতর্ক দৃষ্টি এড়ায়নি। আপনাকে অবাক করবে না গণতন্ত্রে অবিচল আস্থা সম্পর্কে বইয়ের একদম শেষে তার একটি উক্তি। তিনি বলেন, “সবকিছুর অধিকারের সাথে মানুষের মতবাদ প্রচারের অধিকারও মানুষের থাকা চাই।

তা না হলে মানুষের জীবন বোধ হয় পাথরের মত শুষ্ক হয়ে যায়।” পাঠক হিসেবে একটা জায়গায় আমার চোখ আটকে যায়,অশ্রুসজল হয়। মাও সে তুং এতো কড়া গার্ডে থাকে সেটা জানতে পেরে তিনি জিজ্ঞেস করেন,”আপনাদের নেতাকে তো সকলে ভালোবাসেন তবে তিনি ওভাবে গার্ডের ভিতর বাস করেন কেন?” এই প্রশ্নেই তার সরল মন সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা দিবে আপনাকে। হয়তো এতো সরল বিশ্বাসের লোক ছিলেন বলেই নিজে ভারী গার্ড নিয়ে থাকেন নি আর শিকার হয়েছেন পৃথিবীর জঘন্যতম হত্যাকান্ডের।

এই বিভাগের আরো খবর
Loading...